<p><br></p>
০৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১০:০০:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি কৃষিমন্ত্রীর, মানতে হবে নির্দিষ্ট নিয়ম মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: বড় রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে ইলন মাস্ক ও তার ব্যবসা সাম্রাজ্য ভ্যাকসিন উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: বড় রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে ইলন মাস্ক ও তার ব্যবসা সাম্রাজ্য হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি: এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার রদ্রি কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে: আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষিকে লাভজনক করার ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী মানবাধিকার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আত্মপ্রকাশ করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন ককাস ভারত থেকে সার্ভার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ও ডিজিপের বিচ্ছিন্নকরণ বগুড়ায় সরকারি জায়গায় স্থায়ী দোকানের দাবিতে ফল ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন বন্ড জিম্মি করে অঢেল সম্পদের মালিক কাস্টমস কর্মকর্তা ইরফান আলী, দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ


রিকশাচালকের ছেলে শতকোটি টাকার মালিক : কার ছত্রছায়ায় সোহেলের এই উত্থান?
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-১১-২০২৬
রিকশাচালকের ছেলে শতকোটি টাকার মালিক : কার ছত্রছায়ায় সোহেলের এই উত্থান?


চাকরির ৭ বছরে সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

ভুয়া সনদে চাকরির অভিযোগ
আওয়ামী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পর উপদেষ্টা আদিলুরের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হয়ে প্রভাব-বাণিজ্যের অভিযোগ, নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়

সরকারের যতগুলো প্রতিষ্ঠান-মন্ত্রণালয় দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে দুর্নীতির মহোৎসবে পরিণত হয়েছিলো তার মধ্যে অন্যতম গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়। হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির খবরের পাশাপাশি এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচারের হাজারো অভিযোগ। 

গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের অসাধারণ সৌভাগ্যবান একজন কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বিতর্কিত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানেরও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের যে কোন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহনের পরও গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের `ব্যক্তিগত কর্মকর্তা`র মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল পদে বহাল থাকার বিরল এক দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়।

গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে যখন সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা`র প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তখন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. সোহেল মিয়াকে ঘিরে উঠেছে নানা গুরুতর অভিযোগ। পদায়ন, বদলি, টেন্ডার, প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দ, জমি ও বাড়ি দখলসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল উপদেষ্টার দপ্তরে উপস্থাপনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন সোহেল। বিনিময়ে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তার অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন নিয়ে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েক বছরের সরকারি চাকরির সময়ে তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে। এসব সম্পদের বড় অংশই বাবা, ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

রিকশাচালক বাবার নামে ফ্ল্যাট-গাড়ি

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিরপুর-১৬ নম্বর সেকশনের ১ হাজার ৩৫৮ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট সংরক্ষিত প্রতিমন্ত্রী কোটায় সোহেল মিয়ার বাবা মো. ফজলুল হকের নামে বরাদ্দ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফজলুল হক দীর্ঘদিন রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এমন একজন ব্যক্তির নামে রাজধানীর মিরপুরে সংরক্ষিত কোটায় ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এরপর ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর ফজলুল হকের নামে ১ হাজার ৫০০ সিসির একটি জাপানি টয়োটা ব্র্যান্ডের সাদা প্রাইভেট কার কেনা হয়। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-২৯-১৩৬৫। সোহেলের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, এর বাইরে আরও একটি দামি গাড়ি রয়েছে তার।

চাকরির এক বছরের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

সোহেল মিয়া ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। এর মাত্র এক বছরের মাথায়, ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভা থেকে ‘মেসার্স নেক্সাস এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে নাম রয়েছে সোহেলের বাবা মো. ফজলুল হকের। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স নম্বর ০০৭৫১ এবং লাইসেন্স আইডি ০৫-০০৫-০০৭৫১। ফজলুল হকের টিআইএন নম্বর ৮৫২৮৫২৬২১৪৮৫ এবং প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর ০০২২৩৪৯০৪-০৪০৬।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কালিহাতীর একটি বেসরকারি ব্যাংকে নেক্সাস এন্টারপ্রাইজের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাবে ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৪ টাকা ব্যালেন্স ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার!

বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও একটি প্রশ্ন। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নেক্সাস এন্টারপ্রাইজকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

কালিহাতীতে জমি, মার্কেট ও বিলাসবহুল বাড়ি

সোহেল মিয়ার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌর এলাকায়। স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে এফটি টীম তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়েছে।

হাসপাতাল রোডে সোনালী ব্যাংকের পাশে প্রায় ৬ শতাংশ জমি তার বাবার নামে কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী প্রতি শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে একটি মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মার্কেট নির্মাণে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এই ব্যয়ের পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালিহাতীর ফকিরবাড়ি রোডের কাছে সোহেলের ছোট ভাই আনোয়ারের জন্য একটি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে এর কাছেই রয়েছে একটি বিলাসবহুল বাড়ি। বাড়িটির নাম ‘ফজলুল হক ভিলা’। ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—হোল্ডিং-৩৮৫, রোড নম্বর-৫, সাতুটিয়া পূর্বপাড়া, কালিহাতী, টাঙ্গাইল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পরপরই সোহেল মিয়ার পরিবারের আর্থিক অবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন জায়গায় জমি কেনার পাশাপাশি বাবা, ভাই, শ্বশুর, সম্বন্ধী ও স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।

ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ

সোহেল মিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি কালিহাতী আরএস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৩ সালে এসএসসি, ২০০৬ সালে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করেন।

এরপর ২০১৬ সালের জানুয়ারি-জুন সেশনে টাঙ্গাইলের একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে ছয় মাস মেয়াদি কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স এবং একই সময়ে বগুড়ার ইনস্টিটিউট অব আইসিটির অধীনে ছয় মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মাল্টিল্যাংগুয়াল সেক্রেটারিয়াল সায়েন্স কোর্স সম্পন্ন করার সনদ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু অনুসন্ধানে এসআইটি ফাউন্ডেশনের অফিস রেজিস্টারে সোহেল মিয়ার নামে সংশ্লিষ্ট সনদের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সনদে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সনদের স্বাক্ষরের মিল নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এমনকি একই সময়ে টাঙ্গাইল ও বগুড়া—দুই জায়গায় ছয় মাস মেয়াদি কোর্স করার বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আরও অভিযোগ, টাঙ্গাইলের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ভর্তি রেজিস্টারেও তার নাম পাওয়া যায়নি; যদিও অনলাইনে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে তার মার্কশিট দেখা গেছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

এই কারণে প্রশ্ন উঠেছে—চাকরিতে নিয়োগের সময় সোহেল মিয়া যে সনদ ব্যবহার করেছিলেন, সেটি আদৌ বৈধ ও প্রকৃত কি না?

এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নথি পরীক্ষা করে বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।

ছয় বছরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, এরপর প্রভাবের বিস্তার?

সোহেল মিয়া ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

এরপর ২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে তাকে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে পদায়ন করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান।

এরপর থেকেই তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

টেন্ডার, বদলি, প্লট, ফ্ল্যাট—সবখানেই কি সোহেলের প্রভাব?

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে উপদেষ্টার দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সোহেল মিয়া অবগত থাকতেন। বিশেষ করে—গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন, রাজউকের প্লট ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত বিষয়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বড় অঙ্কের টেন্ডার, ঠিকাদারি কাজ, প্রকল্প অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট ফাইল নিয়ে তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কাজে বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুবিধা আদায়ের একটি চক্র তৈরি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।

বেতনের সঙ্গে সম্পদের হিসাব মেলে কি?

সোহেল মিয়া যখন সরকারি চাকরিতে যোগ দেন, তখন তার পদ ছিল সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর। ওই পদের বেতন স্কেল ছিল ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা।

প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চাকরির প্রথম কয়েক বছরে তার সরকারি বেতন ও সুযোগ-সুবিধার মোট পরিমাণ আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে।

অন্যদিকে, তার পরিবারের নামে মিরপুরের ফ্ল্যাট, গাড়ি, কালিহাতীতে জমি, মার্কেট, বাড়িসহ বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—সরকারি চাকরির আয় দিয়ে এত অল্প সময়ে এসব সম্পদ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে কীভাবে?

সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস, ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের তথ্য যাচাই করলেই এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।

সম্পদের মালিক বাবা-ভাই, নিয়ন্ত্রণ কার?

প্রাথমিক অনুসন্ধানে আলোচিত বিষয়টি হলো—সোহেল মিয়ার পরিবারের নামে থাকা সম্পদের একটি বড় অংশ তার বাবা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা ফজলুল হকের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে বর্তমান সম্পদের পরিমাণের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার প্রশ্ন—“ফজলুল হক তো রিকশা চালাতেন। ছেলে চাকরি পাওয়ার পর এত সম্পদের মালিক কীভাবে হলেন?”

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন সম্পদের মালিকদের আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, জমির দলিল এবং অর্থের উৎস যাচাই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. সোহেল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার  যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। 



শেয়ার করুন