<p><br></p>
ইসরায়েলে দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছরের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শাসনের অবসান ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ঘোষণা অনুযায়ী, বিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর অন্যতম নেতা এবং ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে তাঁর এই দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে দায়িত্ব পেলেও আইজেনকোটের জন্য পথটি সহজ নয়। ১২০ সদস্যের নেসেটে (পার্লামেন্ট) সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অথচ সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি:
নেতানিয়াহুর জোট: ৫৩ আসন
আইজেনকোটের জোট: ৪৮ আসন
আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো: ১৯ আসন
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের এই জটিল সমীকরণে আইজেনকোটের সামনে মূলত তিনটি পথ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি:
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি: নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে একটি ‘জাতীয় ঐক্যের’ সরকার গঠনের আহ্বান জানালেও, দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে সমঝোতা ও এর স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া: আরব দলগুলো আইজেনকোটকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, চেঞ্জ ব্লকের অনেক নেতাই তাদের সরাসরি সরকারে জায়গা দেওয়ার বিরোধী। এছাড়া যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে এটি রাজনৈতিকভাবে বেশ সংবেদনশীল।
অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা: এই পথে হাঁটলে বাধ্যতামূলক সামরিক ও জাতীয় সেবা সংক্রান্ত নীতি নিয়ে আইজেনকোটের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি হতে পারে।
প্রতিশ্রুতি নাকি আদর্শ—কিসের ছাড় দেবেন আইজেনকোট? নির্বাচনের আগে আইজেনকোটের ‘চেঞ্জ ব্লক’ আরব দলগুলোর সরাসরি সমর্থনে সরকার না গড়ার এবং সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন সরকার গঠন করতে হলে তাঁদের হয় রাজনৈতিক আদর্শে ছাড় দিতে হবে, নতুবা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মুখে পড়তে হবে।
জোট গঠনের জন্য আইজেনকোট সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি সফল না হলে ক্ষমতা চলে যেতে পারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হাতেই।