<p><br></p>
সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী গাছের জন্য স্বস্তিদায়ক খবর দিয়েছে বন বিভাগ। শতাব্দীপ্রাচীন ‘আগামরা’ বা টপ ডাইং রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় গত চার দশকে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছের কার্বন ধারণক্ষমতা বেড়েছে ২১ শতাংশ। পরিমাণের হিসেবে যা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।
বন বিভাগের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগাক্রান্ত সুন্দরী গাছের সংখ্যা যেমন ৬ শতাংশ কমেছে, তেমনি গাছটির মোট সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বা ৫ শতাংশ।
তবে আশার কথা হলো, ১৯৮৫ সালের পর থেকে সুন্দরী গাছ মধ্যম মাত্রার লবণাক্ততার সঙ্গে খাপ খাইয়ে প্রাকৃতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। বর্তমানে গাছের বীজ থেকে নতুন চারা জন্মানোর পাশাপাশি বনের সবুজায়নও তরান্বিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের এই বর্ধিত কার্বন ধারণক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট বাজারে অংশ নেওয়ার উজ্জ্বল সুযোগ রয়েছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার সরকার মনে করেন, শুধু আক্রান্ত গাছ শনাক্ত না করে রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম নিশ্চিত করার মাধ্যমে একে বন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।