<p><br></p>
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। যতদূর চোখ যায়, সোনালী ধানের শীষে রঙিন হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ। কৃষকের নিরলস পরিশ্রমে চলতি মৌসুমে রোপা-আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে ফসলে বড় ধরনের কোনো রোগবালাই না থাকায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে আগাম জাতের পাকা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসব। পুরো দমে ধান কাটতে দেরি করতে হবে কমপক্ষে ২ সপ্তাহ। চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার ৭শ৫০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধান চাষ হয়েছে।
উপজেলার একডালা ইউনিয়নের ঘোলাপুকুর গ্রামের কৃষক মো. আনিছার রহমান প্রামাণিক জানান,তিনি এবার ১৯ বিঘা জমিতে আগাম জাতের ধানের মধ্যে ব্রি ধান-৯০ চাষ করেছেন। ধান পেকে যাওয়ায় ইতোমধ্যে কাটার কাজ শুরু করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় মাঠেই ধান ও খড় শুকিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভালো ফলন পেয়ে এবার লাভের আশা করছেন তিনি।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জাহিদুল রহমান জানান, রোপা আমন মৌসুমে প্রধান আগাম জাতের ধান বিনা-৭, বিনা-১৭, ব্রি ধান-৭৫, এবং ব্রি ধান-৯০ ইতিমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ মেঃ টন। বন্যার কারণে সামান্য কিছু জমিতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও সার্বিক ফলন ভালো। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সুষম সার ব্যবহার, সঠিক সময়ে চারা রোপণ এবং আগাম জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক ও মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। আগাম জাতের ধান কাটার পরপরই যেন কৃষকরা জমিতে সরিষা ও আলু আবাদ করতে পারেন, সেই পরিকল্পনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার রাণীনগরে রোপা-আমনের প্রত্যাশিত বাম্পার ফলন অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।