<p><br></p>
০৬ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ০৯:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধূলার কোনো বিকল্প নেই এমপি রেজাউল ইসলাম মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধূলার কোনো বিকল্প নেই এমপি রেজাউল ইসলাম ধ্বংসের মুখে রাণীনগরের ঐতিহাসিক কাশিমপুর রাজবাড়ি মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধূলার কোনো বিকল্প নেই এমপি রেজাউল ইসলাম গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত অলিম্পিয়াড আত্রাইয়ে নৈতিকতা শেখানোর উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়েছে, বন্ধ অধিকাংশ সততা স্টোর গোপালগঞ্জের তিন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার গান বাজানো নিয়ে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষ নওগাঁয় পুনাকের উদ্যোগে টিকাদান কর্মসূচি মহাদেবপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেফতার


ডিজেল ও ওভারহেড তার ছাড়াই ছুটছে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন ‘নমো গ্রিন রেল’
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-১১-২০২৬
ডিজেল ও ওভারহেড তার ছাড়াই ছুটছে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন ‘নমো গ্রিন রেল’


ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে এক পরিবেশবান্ধব ও যুগান্তকারী প্রযুক্তি। ঐতিহ্যবাহী ডিজেল ইঞ্জিন বা মাথার ওপরের বৈদ্যুতিক তারের ঝামেলা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্রেনের ভেতরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চলছে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত যাত্রীবাহী ট্রেন—‘নমো গ্রিন রেল’।

প্রচলিত ডিজেল ট্রেনের বিকট শব্দ বা কালো ধোঁয়ার দিন পেরিয়ে এই ট্রেনটির চলাচলের সময় কেবল জলীয় বাষ্প (পানি) ও সামান্য তাপ নির্গত হয়।

  • ফুয়েল সেল প্রযুক্তি: এই ট্রেনে হাইড্রোজেন সরাসরি চাকা ঘোরানোর কাজে ব্যবহৃত হয় না। ট্রেনের ট্যাংকে থাকা হাইড্রোজেনের সাথে বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেনের মিশ্রণ ঘটিয়ে ‘ফুয়েল সেল’ নামক একটি যন্ত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।

  • সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা: ফুয়েল সেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি ট্রেনের মোটরে সরবরাহ করা হয়, যা ট্রেনকে সামনে এগিয়ে নেয়। রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় কোনো জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না।

  • ব্যাটারির ব্যবহার: ট্রেনের গতি বাড়ানো বা উঁচুতে ওঠার মতো অতিরিক্ত শক্তির চাহিদা মেটাতে এবং ব্রেকিংয়ের সময় গতিশক্তি সংরক্ষণ করতে লিথিয়াম ফেরো ফসফেট (এলএফপি) ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে।

গত ১৭ জুলাই হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত সেকশনে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। ১০টি কোচের এই ট্রেনটিতে রয়েছে দুটি হাইড্রোজেন চালিত ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রীবাহী কোচ, যার সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ কিলোওয়াট। বর্তমানে জিন্দ-সোনিপত রুটে ট্রেনটি সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চলার অনুমতি পেলেও এর ডিজাইন গতি প্রতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। উদ্বোধনের পর থেকে ট্রেনটি এরই মধ্যে ১,২০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ৩,২০০ লিটারের বেশি ডিজেল সাশ্রয় করেছে।

হরিয়ানার জিন্দে ভারতীয় রেলওয়ে হাইড্রোজেন সরবরাহের একটি বিশেষ প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। সেখানে ইলেক্ট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় পানি ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি করা হয়। হাইড্রোজেন অত্যন্ত দহনযোগ্য ও হালকা গ্যাস হওয়ায় সুরক্ষার জন্য ট্রেনে উন্নত সেন্সর, স্বয়ংক্রিয় শাট-অফ ব্যবস্থা এবং ভেন্টিলেশন রাখা হয়েছে। এর রিফুয়েলিং সুবিধাটি পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন (পিইএসও) দ্বারা প্রত্যয়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব রুটে ইতিমধ্যে ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইন রয়েছে, সেখানে সরাসরি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা বেশি সাশ্রয়ী। হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রূপান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় শক্তির কিছুটা অপচয় হয়। তাই যেসব দুর্গম বা আঞ্চলিক রুটে তার টানা কঠিন বা ব্যয়বহুল, মূলত সেখানেই ডিজেল ট্রেনের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন এবং রিফুয়েলিং অবকাঠামোর সম্প্রসারণের ওপর নির্ভর করছে এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ। সফল হলে ভবিষ্যতে কালকা-শিমলার মতো ঐতিহাসিক পাহাড়ি হেরিটেজ রুটেও এই ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।



শেয়ার করুন