<p><br></p>
একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে এবং এর উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া এই মেলা সফল হওয়ার কামনা করে তিনি বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সরকারের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো কৃষি। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে কৃষি ও কৃষকের অবদান অপরিসীম। কৃষিকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও জলবায়ু সহিষ্ণু খাতে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
এই লক্ষ্য পূরণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া।
উৎপাদন ব্যয় কমানো ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
কৃষিভিত্তিক শিল্প ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা।
নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা এবং সংরক্ষণের সুবিধা সম্প্রসারণ করা।
সনাতন জ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়: প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনাতন কৃষিজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটানো গেলে তা শুধু উৎপাদনশীলতাই বাড়াবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি এটি তরুণ প্রজন্মকে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষিতে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে।
যেখানে বসছে মেলা:
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত যৌথভাবে বসছে
মেলাটি কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী ও কৃষকদের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
পরিশেষে তিনি বলেন, সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য এমন একটি স্বনির্ভর কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কৃষকরা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন পাবেন এবং সমৃদ্ধ গ্রামীণ অর্থনীতির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।