<p><br></p>
০৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৮:২৭:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চীনা দূতাবাসের জিম্মায় জামিন: কক্সবাজার থেকে আইফোন-কম্পিউটার উদ্ধারের ঘটনায় মুক্ত ৬ বিদেশি অনলাইনে সস্তায় ইলিশ বিক্রির ফাঁদ: ১১ সদস্যের প্রতারক চক্রের আরও দুজন আটক ইন্দোনেশিয়ায় নজিরবিহীন ঘটনা: রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে ভিআইপিদের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগে আটক ৩ পুলিশ জেনারেল বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখলেই অর্ধেক মশার লার্ভা ধ্বংস সম্ভব: ডিএসসিসি জরিপ কাশিয়ানীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতার নির্দেশ- সৌরভ রেজা ‘টপ পে’ (TOPPAY)-এর বিরুদ্ধে কিস্তি পরিশোধের পর ফোন আনলক না হওয়া এবং অতিরিক্ত ফি কাটার অভিযোগ গ্রাহকের বাংলাদেশ পুলিশ ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর উদ্বোধনী ‍অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পিবিআই প্রধান প্রতিযোগিতা কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ১১০ কোটির দুর্নীতি থেকে খালাস পেলেন অভিযুক্তরা নামসর্বস্ব মামলার আড়ালে চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট: উত্তরায় হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ ময়মনসিংহ-৮ আসনের এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে গুরুতর সব অভিযোগ


রাজউক পরিদর্শক ফারুক মালুমের ‘আলাদিনের চেরাগ’: গুলশান-উত্তরয়ায় ৩৪ ফ্ল্যাট ও ২ দোকান, এমপির ছবি দেখিয়ে সাংবাদিককে ভয়!
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-১১-২০২৬
রাজউক পরিদর্শক ফারুক মালুমের ‘আলাদিনের চেরাগ’: গুলশান-উত্তরয়ায় ৩৪ ফ্ল্যাট ও ২ দোকান, এমপির ছবি দেখিয়ে সাংবাদিককে ভয়!


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এস্টেট পরিদর্শক ফারুক হোসেন মালুমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর বেতনের সঙ্গে তাঁর বর্তমান বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের কোনো মিল নেই। সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে তাঁর দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, তিনি সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং প্রভাবশালী মহলের প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও উত্তরার বিভিন্ন স্থানে ফারুক মালুম গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য।

  • গুলশান: গুলশানের ১ নম্বর রোডের ২১ নম্বর প্লটের ৫ নম্বর বাড়িতে রয়েছে তাঁর একটি দৃষ্টিনন্দন ফ্ল্যাট।

  • উত্তরা: উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়িটি তাঁর নিজের মালিকানাধীন। এছাড়া উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের ৫৫ নম্বর বাড়িতে তাঁর ও তাঁর বেনামে রয়েছে চারটি বড় ফ্ল্যাট। একই সঙ্গে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িটির মালিকানাও তাঁর দখলে রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

  • বাণিজ্যিক সম্পত্তি: আবাসিক সম্পত্তির পাশাপাশি বাণিজ্যিক খাতেও রয়েছে তাঁর বিশাল আধিপত্য। খোদ রাজউকের মালিকানাধীন রাজউক ট্রেড সেন্টারে ফারুক হোসেন মালুম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে একাধিক দোকান। এর মধ্যে ১৮ ও ৩৮ নম্বর দোকান দুটির মালিকানা নিয়ে রাজউকের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও থেমে থাকেনি তাঁর অনিয়ম। ৫ আগস্টের পর প্রশাসনিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনি পদোন্নতি বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা রাজউকের সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের পলাতক কর্মকর্তা শেখ শাহিনুল ইসলামের আশ্রয়ে থেকে তিনি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট জালিয়াতি, নথি গায়েব, ফাইল জিম্মি করা এবং প্লট হস্তান্তরে হয়রানির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ফারুক মালুম তা এড়িয়ে যান। উল্টো তিনি ঢাকা-৯ আসনের এমপি হাবিবুর রশিদ হাবিবের পাশে দাঁড়ানো ছবি দেখিয়ে সাংবাদিকদের ভয় দেখান। এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি সবার সামনে অফিস ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। রাজউক কার্যালয়ের সামনে হাজারো মানুষের সামনে ঘটে যাওয়া এই অনভিপ্রেত ঘটনায় সংস্থাটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন সাধারণ কর্মচারীর এমন অস্বাভাবিক বিত্তশালী হয়ে ওঠার নেপথ্য রহস্য উদঘাটনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত পরিচালনা করা জরুরি।



শেয়ার করুন