<p><br></p>
০৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৮:২৬:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অনলাইনে সস্তায় ইলিশ বিক্রির ফাঁদ: ১১ সদস্যের প্রতারক চক্রের আরও দুজন আটক ইন্দোনেশিয়ায় নজিরবিহীন ঘটনা: রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে ভিআইপিদের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগে আটক ৩ পুলিশ জেনারেল বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখলেই অর্ধেক মশার লার্ভা ধ্বংস সম্ভব: ডিএসসিসি জরিপ কাশিয়ানীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতার নির্দেশ- সৌরভ রেজা ‘টপ পে’ (TOPPAY)-এর বিরুদ্ধে কিস্তি পরিশোধের পর ফোন আনলক না হওয়া এবং অতিরিক্ত ফি কাটার অভিযোগ গ্রাহকের বাংলাদেশ পুলিশ ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর উদ্বোধনী ‍অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পিবিআই প্রধান প্রতিযোগিতা কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ১১০ কোটির দুর্নীতি থেকে খালাস পেলেন অভিযুক্তরা নামসর্বস্ব মামলার আড়ালে চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট: উত্তরায় হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ ময়মনসিংহ-৮ আসনের এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে গুরুতর সব অভিযোগ ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ দুদক ডিজি নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে


প্রশাসনের হস্তক্ষেপ অবশেষে বৃদ্ধ শামসুল হকের ঠাঁই হলো বড় ছেলের ঘরে
সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-১১-২০২৬
প্রশাসনের  হস্তক্ষেপ অবশেষে বৃদ্ধ শামসুল হকের ঠাঁই হলো বড় ছেলের ঘরে


প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বৃদ্ধ শামসুল হকের(৯৫) ঠাঁই হয়েছে বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লার ঘরে।


আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে আজিজুল হক তার বৃদ্ধ পিতা শামসুল হককে তার ঘরে তুলে নেয়।


বৃদ্ধ শামসুল হক গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামের  ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।


এর আগে  মঙ্গলবার ( ৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীন বৃদ্ধ শামসুল হকের ২ ছেলে ও ৪ মেয়েকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাদের পিতার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীনের এ নির্দেশের পর বৃদ্ধ শামসুল হকের বড় ছেলে আজিজুল হক তার পিতার দায়িত্ব নিতে রাজি হয়।


জানাগেছে, হাজী শামসুল হক মোল্লার দুটি ছেলে ও চারটি মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায়  ফেরিওয়ালা।ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাস চালকের সহকারী ।


অপরদিকে চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমকে বিয়ে দিয়েছেন । ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।


বৃদ্ধ হাজী শামসুল হকের ছোট সন্তান কাজুলী বেগম বাদে আর পাঁচ সন্তান তাদের সংসার সন্তান নিয়ে ব্যস্ত।


গত কয়েক বছর আগে হাজী শামসুল হক তার জমি বিক্রি করে হজ্ব করতে যায়।তখন বাকি জমি জমা সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন।কিন্তু বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের কোন সন্তানই খোঁজ খবর তেমন রাখছে না।


শামসুল হক মোল্লা গত কয়েক দিন ধরে তার বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন।


মঙ্গলবার ( ৩ নভেম্বর) সকালে মায়া বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে আসলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে হাজী শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছে নিচে রেখে দেয়। 


এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে শামসুল হক মোল্লার সন্তানদের নিয়ে  বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।


মায়া বেগম বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ্য।তার পরে আমার বাড়িতে আবার প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে।যার কারনে আমার পক্ষে আমার বাবাকে রাখা সম্ভব নয়।


শামসুল হকের মেঝ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লক্ষ টাকা করে দিয়েছে।দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছে। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশুনা করবো?


এ বিষয়ে জানার জন্য শামসুল হক মোল্লার  বাড়িতে গেলে তার বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা বলেন, ইউএনও স্যার বলার পর আমি আমার বাবাকে ঘরে নিয়েছি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার বাবা আমার কাছে থাকবে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির এক গৃহিনী বলেন,শামসুল হক মোল্লার জমি জমা লিখে নিয়ে এখন তার সন্তানরা তাকে আশ্রয় দিচ্ছে না। তিনি যদি সন্তানদের জমি লিখে না দিতো তা হলে হয় তো এই অবস্থা হতো না।সন্তানরা যেটি করেছিলো সেটি কোন ভাবেই কোন পিতার জন্য কাম্য নয়।


এখন শামসুল হকের বড় ছেলে আজিজুল হক তার বাবাকে ঘরে তুলে নিয়েছে এ জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।


বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, আমার বড় ছেলের ঘরে আমার আশ্রয় হয়েছে। আমি এখনই খুশি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি আমার বড় ছেলের কাছে থাকবো।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীন বলেন,ঘটনাটি জানার সাথে সাথে আমি বৃদ্ধ শামসুল হকের সন্তানদের আমার দপ্তরে ডেকে আনি।পরবর্তীতে তাদের মুখ থেকে সব কিছু জানার পর শামসুল হক সাহেবের সন্তানদেরকে তাদের পিতার দায়িত্ব নিতে বলি। সাথে সাথে শামসুল হকের বড় ছেলে আজিজুল হক তার পিতার দায়িত্ব নিতে রাজি হয়। যদি তারা তাদের পিতার ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিতে রাজি না হতো তা হলে তাদের বিরুদ্ধে 'পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ' আইন অনুসারে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো।



শেয়ার করুন