<p><br></p>
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম ওরফে সম্রাটের (অফিসিয়াল আইডি নম্বর: ৬০২২২২৭) বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অন্তত ছয়টি অবৈধ ট্যাক্সি স্ট্যান্ড গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকৌশলী আবদুর রহিম সম্রাটের প্রত্যক্ষ মদদে ও তথাকথিত ‘ফ্রি পার্কিং জোন’-এর আড়ালে নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবৈধ ট্যাক্সি স্ট্যান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। সওজ-এর নিয়ম অনুযায়ী মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এমন স্ট্যান্ড স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া এসব স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা বা তোষণ বাণিজ্য করা হয় এবং সেই অর্থ সরাসরি তাঁর পকেটে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বরং কথোপকথনের সময় তিনি অবাসাত্মক ও অসংলগ্ন কথা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধি: ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও রাজকীয় জীবনযাপন
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। সূত্র জানায়, ঢাকার ধানমন্ডির রোড ৯/এ-এর ১২১ নম্বর বাড়ির ৫/বি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। একই সড়কের ১০১ নম্বর রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবনেও তিনি অংশীদার বলে অভিযোগ রয়েছে।
যদিও তিনি দাবি করেন যে তার ব্যবহৃত টয়োটা গাড়িটি তার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার শ্বশুরমশাইয়ের, তবে সম্প্রতি তিনি একটি কালো রঙের বিলাসবহুল জিপ গাড়িও কিনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত খরচের বহর দেখে তার ঘনিষ্ঠজনেরাও অবাক হন। তাঁর শুধু সাপ্তাহিক বাজার খরচই প্রায় ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মতো, যা তার সরকারি বেতনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
প্রকৌশলী রহিমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো “পার্সেন্টিজ বাণিজ্য”। অভিযোগ রয়েছে, যে সকল ঠিকাদার কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের কাজে বিলম্ব করানোসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অনিয়ম ধামাচাপা দিতে তিনি তার এক নিকটাত্মীয়কে (যিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন) ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার প্রভাব খাটিয়ে তিনি দপ্তরে নিজেকে প্রভাবশালী ও ধরাছোঁয়ার বাইরে হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ডা. নাজমুল হক নওরোজ বলেন:“নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সম্রাটের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আমরা তদন্ত করব এবং তিনি দোষী প্রমাণিত হলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ লিংক রোড থেকে অবিলম্বে অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো উচ্ছেদ এবং তার সমস্ত কথিত অনির্চলতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
দপ্তরের অনেক সৎ কর্মকর্তার মতে, উচ্চপর্যায়ের এই তদন্ত সঠিকভাবে পরিচালিত হলে প্রকৌশলী রহিমের কথিত দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র ও তার সম্পদের উৎস দ্রুত উন্মোচিত হবে।