<p><br></p>
০৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০২:৫২:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শরীয়তপুরের উন্নয়নে রেললাইন ও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা হুইপ অপুর নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি: তদন্তে সত্যতা মিলেছে, প্রতিবেদন প্রকাশ করবে না বিসিবি চাঁদপুরে ১০০ প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ২০২৭ বিশ্বকাপ: বাংলাদেশকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় রাখছেন না মাইকেল ভন কবিরাজি চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ভুয়া কবিরাজ গ্রেফতার শীত ঘনিয়ে আসতেই ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার জোরালো হামলা তামিলনাড়ুতে সিনেমার টিকিটের হাহাকার কমাতে বড় সিদ্ধান্ত: এখন থেকে প্রতিদিন দেখানো যাবে ৬টি শো ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি চূড়ান্তের সিদ্ধান্ত, জানুয়ারি থেকে কার্যকরের প্রত্যাশা পিডব্লিউডি প্রকৌশলী রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


বিএমইটিতে জামিল-তাজিম-ইকবাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-১১-২০২৬
বিএমইটিতে জামিল-তাজিম-ইকবাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ


জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) বিদেশে কর্মী পাঠানোর ছাড়পত্র, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সার্বিয়ায় বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কর্মী পাঠানোর ছাড়পত্র প্রদান এবং বিএমইটির দুই কর্মকর্তা ও একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ—দুটি ঘটনাই সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদারকি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোতে মহাপরিচালক জামিল, মোজাজ্জেদ মো. তাজিম-উর-রহমান ও সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সার্বিয়ায় কর্মী পাঠানোর ছাড়পত্র প্রদান নিয়ে বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স শাখার বিরুদ্ধে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সার্বিয়ার ‘লজিক্কা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সলিউশনস ডিওও’ (Logikka Artificial Intelligence Solutions d.o.o.) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের যৌক্তিকতা যথাযথভাবে যাচাই না করেই কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 

অভিযোগে বিএমইটির মহাপরিচালক এবং ক্লিয়ারেন্স শাখার পরিচালক মোজাজ্জেদ মো. তাজিম-উর-রহমানের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ছাড়পত্র দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। 

অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে সার্বিয়ায় কর্মী নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের কারণে। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে জনবল মাত্র দুইজন বলে উল্লেখ রয়েছে। সার্বিয়ার সরকারি নিবন্ধনে এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ‘অন্যান্য বিশেষায়িত নির্মাণকাজ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটিকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি হিসেবে উপস্থাপন করে কর্মী নিয়োগের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যের দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক মোট আয় ২১ লাখ ৪৬ হাজার সার্বিয়ান দিনার, যা আনুমানিক ১৯ থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এই পরিমাণ আয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ থেকে নিয়োগ করা কর্মীদের বেতন, আবাসন এবং অন্যান্য ব্যয় বহন করতে সক্ষম কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে কোম্পানিটির আর্থিক বিবরণী, কর্মী নিয়োগের চুক্তি এবং বেতন প্রদানের সক্ষমতা যাচাই না করে একে নিশ্চিতভাবে ভুয়া বা অকার্যকর প্রতিষ্ঠান বলা যায় না। 

বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার শিকার হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ শ্রমিকেরা। তাঁরা জমি বিক্রি, ঋণ গ্রহণ কিংবা পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, চাকরির ধরন, বেতন, কর্মপরিবেশ ও বৈধ অনুমোদন যথাযথভাবে যাচাই না করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়ে থাকলে তার দায় নির্ধারণ করা জরুরি। বিশেষ করে সার্বিয়ার মতো দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতার প্রকৃত কার্যক্রম এবং ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা নিশ্চিত না হলে কর্মীরা আর্থিক ক্ষতি ও অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে পারেন।

এদিকে বিএমইটির সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন এবং বাংলাদেশ-জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (বিজিটিটিসি) অফিস সহায়ক মো. মমতাজুল আলম সিকদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিজিটিটিসি ও বিএমইটির সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস এম মাহবুবুল হকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএমইটির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, ইকবাল হোসেন বিএমইটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব পালনের সুবাদে সংস্থার ভেতরে প্রভাব বিস্তার করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে তিনি ‘ডিজির ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দায়িত্বে বহাল থাকায় কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের আশঙ্কা, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ পদে বহাল থাকলে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। 

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য তাজিম উর রহমানের কাছে গেলে তিনি জানান তার সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মহাপরিচালক জামিল আহমেদ অবগত আছেন আর কিছু জানতে চাইলে জামিল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও জানান জামিল সাহেবের অনুমতি ছাড়া কোন কাজই করেন না তিনি। 

সহকারী পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেনের বক্তব্য নিতে গেলে তিনিও একই কথা বলেন। 

এ বিষয়ে বার বার মহাপরিচালক জামিল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও প্রতিবেদক ব্যর্থ হন।



শেয়ার করুন