<p><br></p>
০৩ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৮:২৮:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ নওগাঁর ১১ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল জনগণের স্বার্থে রাজপথে নামার ডাক এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রবীণদের জীবন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি নতুন নামে যাত্রা শুরু: ‘ই-পার্লামেন্ট’ হলো ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর জেদের জয়: প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জিপিএ-৫ পেলেন সাকিরুল, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে যুব সমাজের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে আশুলিয়া ও সাভার উত্তপ্ত: শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২০ পাঠদান বন্ধ রেখে খেলার মাঠে গরুর হাট: কুষ্টিয়ার চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে ক্ষোভ


গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ: ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-১১-২০২৬
গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ: ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি


ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আজও উত্তপ্ত রয়েছে পরিস্থিতি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা এড়াতে পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা এদিন সকাল ৯টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল শ্রমিক, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, কোনাবাড়ী, ভোগড়া ও সফিপুর এলাকাতেও শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে মহাসড়কে মহড়া দেন। এ সময় শ্রমিকদের একটি অংশ লাঠি হাতে তাদের সঙ্গে যোগ দিলেও যানবাহন চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয়নি। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সার্বিক যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

কারখানা ছুটি ও শ্রমিকদের বক্তব্য শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হলেও শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এসব কারখানার শ্রমিকরা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যান।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তাদের মূল দাবি—ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তবে তারা কোনো ধরনের ভাঙচুর বা সহিংসতা চান না, বরং আলোচনার মাধ্যমে এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করছেন।

প্রশাসনের কড়াকড়ি ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মাঠে কাজ করছে ১০ প্লাটুন বিজিবি এবং জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার জানিয়েছেন, শ্রমিক নামধারী দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা রুখতেই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। এই আন্দোলনের পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানান, চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত অন্তত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বহিরাগতদের আশ্রয় না দিতে বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিকদের প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।



শেয়ার করুন