আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের ভরাডুবি: ইরান যুদ্ধ ছাড়াও যে ৫ কারণে হারল রিপাবলিকানরা
অনলাইন ডেস্ক
-
আপডেট করা হয়েছে : ০৫-১১-২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির নাটকীয় পরাজয় ও ভরাডুবির কারণ হিসেবে প্রথমে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। দলটির এই বিপর্যয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ ছাড়াও আরও অন্তত চারটি বড় কারণ রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসা সেই ৫টি কারণ একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
নির্বাচনে হারের মূল কারণ হিসেবে শুরুতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ভোটারদের বড় একটি অংশ এই যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি প্রেসিডেন্টকে জড়িয়ে ফেলেন, যা রিপাবলিকানদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ট্রাম্প ভোটারদের বলেছিলেন তাকেই প্রার্থী হিসেবে কল্পনা করে ভোট দিতে, কিন্তু এই রাজনৈতিক কৌশল শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হয় এবং দলীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে।
আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে ভোটাররা চরম বিপাকে পড়েন। সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী পণ্যের দাম ৩.৭ শতাংশ বেড়ে যায় এবং অক্টোবরের শুরুতে ডিজেলের দাম রেকর্ড ৬ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছায়। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোটার আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন এবং এর জন্য সরাসরি ট্রাম্পের নীতিকেই দায়ী করেছেন।
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সুসংহত বার্তা নিয়ে মাঠে নামে। জেমস তালারিকো, অ্যাডাম হ্যামিল্টন, অ্যানি অ্যান্ড্রুজ, আবদুল এল-সাইয়েদ ও জন অসফের মতো শক্তিশালী প্রার্থীরা জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বাস্তবসম্মত বিষয়গুলোকে সামনে এনে ভোটারদের আস্থা অর্জনে সফল হন। বিপরীতে, টেক্সাসের কেন প্যাক্সটনের মতো কিছু রিপাবলিকান প্রার্থীর দুর্বল প্রচারণাও দলের ভরাডুবি ত্বরান্বিত করে।
যেহেতু পণ্যের দাম ও ইরান যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো সরাসরি প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, তাই সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি খোদ রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ট্রাম্প নিজেকে প্রচারের মূল কেন্দ্রে রাখার ফলে ভোটারদের ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নেয়।
গত নির্বাচনে ল্যাটিন বংশোদ্ভূত (হিস্পানিক) ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি অংশ রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকে পড়লেও এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের কারণে ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ নাগরিকের মনে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভোটের বাক্সে।
শেয়ার করুন