<p><br></p>
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন এবং জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ইতিমধ্যে এসংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
সমকাল-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিংবা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তালিকায় কারা রয়েছেন?
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের মুখে রয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
টিপু মুনশি: সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী।
সালমান এফ রহমান: বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা।
সালাম মুর্শেদী: এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য।
শাহরিয়ার আলম: রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
নসরুল হামিদ বিপু: হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়া ফয়জুর রহমান বাদল (তুসুকা গ্রুপ), আবদুস ছালাম (ওয়েল গ্রুপ), খসরু চৌধুরী (নিপা গ্রুপ), একেএম মোশাররফ হোসেন (স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ), মাসুমা খাতুন লিপা (গিভেন্সি গ্রুপ), এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ ও এসএম মান্নান কচির মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বদের নামও এই তালিকায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, আন্দোলনের নেপথ্যে থেকে অনলাইনে ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাঁর ব্যাংক হিসাবও জব্দের আওতায় আসছে। এছাড়া বেশ কিছু ব্যক্তিগত সহকারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরাও এই নজরদারির বাইরে নন।
এনবিআর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে সুনির্দিষ্ট ইন্ধন ও অর্থায়নের প্রমাণ পাওয়ার পরেই কঠোর এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।