<p><br></p>
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এস্টেট পরিদর্শক ফারুক হোসেন মালুমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর বেতনের সঙ্গে তাঁর বর্তমান বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের কোনো মিল নেই। সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে তাঁর দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, তিনি সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং প্রভাবশালী মহলের প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ উঠেছে।
গুলশান: গুলশানের ১ নম্বর রোডের ২১ নম্বর প্লটের ৫ নম্বর বাড়িতে রয়েছে তাঁর একটি দৃষ্টিনন্দন ফ্ল্যাট।
উত্তরা: উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়িটি তাঁর নিজের মালিকানাধীন। এছাড়া উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের ৫৫ নম্বর বাড়িতে তাঁর ও তাঁর বেনামে রয়েছে চারটি বড় ফ্ল্যাট। একই সঙ্গে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িটির মালিকানাও তাঁর দখলে রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
বাণিজ্যিক সম্পত্তি: আবাসিক সম্পত্তির পাশাপাশি বাণিজ্যিক খাতেও রয়েছে তাঁর বিশাল আধিপত্য। খোদ রাজউকের মালিকানাধীন রাজউক ট্রেড সেন্টারে ফারুক হোসেন মালুম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে একাধিক দোকান। এর মধ্যে ১৮ ও ৩৮ নম্বর দোকান দুটির মালিকানা নিয়ে রাজউকের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের পলাতক কর্মকর্তা শেখ শাহিনুল ইসলামের আশ্রয়ে থেকে তিনি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট জালিয়াতি, নথি গায়েব, ফাইল জিম্মি করা এবং প্লট হস্তান্তরে হয়রানির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন সাধারণ কর্মচারীর এমন অস্বাভাবিক বিত্তশালী হয়ে ওঠার নেপথ্য রহস্য উদঘাটনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত পরিচালনা করা জরুরি।