<p><br></p>
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ওবায়দুল কাদেরের দুর্নীতি-লুটপাটের সহযোগী, মহা দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান। মুহুর্মুহু অভিযোগ থাকার পরেও সরকারি গুরুত্বপূর্ন পদে তার পদায়ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার গুরুতর সব অভিযোগ এবং বৈষম্যবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও সরকারি গুরুত্বপূর্ন পদ বাগিয়ে নেওয়া এবং তার বর্তমান পুনঃপদায়ন প্রশ্নবিদ্ধ।
গুরুতর সব অভিযোগ সত্ত্বেও ডিটিসিএ-র শীর্ষ পদে তার মতো বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বসানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আওয়ামী শাসনামলে অনিয়ম ও মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি: অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান ছিলেন তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মন্ত্রী ও তার স্ত্রী ইশরাতুন নেসা কাদেরের নামে মেগা প্রকল্প থেকে অবৈধ কমিশন আদায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সাবেক এই প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বনিম্ন ২৯ হাজার ২৩০ কোটি থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। গড়ে সওজের নির্মাণকাজে দুর্নীতির হার ছিল ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ। এই পর্বতসম দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মঈনুল হাসান বহাল তবিয়তে তার পদ ধরে রেখেছিলেন।
দলীয় প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার: ১৯৯৬ সালে ১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৯৯ সালে সওজে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেওয়া মঈনুল হাসান মূলত দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দ্রুত পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। তিনি কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ২০২২-২৩ মেয়াদে বিনা ভোটে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার নির্বাচিত হন। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সড়ক কমিটির উপদেষ্টা এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে দফায় দফায় নিজ খরচে বহর নিয়ে শেখ মুজিবের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তিনি সমালোচিত হন।
স্বজনপ্রীতি ও পারিবারিক প্রভাব: মঈনুল হাসানের বিরুদ্ধে নিজের ভাগ্নে সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মুনতাসির হাফিজকে ব্যবহার করে সড়ক জোনে 'মামা-ভাগ্নে সিন্ডিকেট' গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। মুনতাসিরকে দিয়ে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য পরিচালনা এবং বিরোধী মতাদর্শের প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের ওএসডি বা শাস্তিমূলক বদলি করা হতো। পাশাপাশি তার পরিবারও সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত। তার চাচাতো ভাই শামসুল আলম কচি মল্লিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং নড়াইল জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।
পাচার করা অর্থ ও অবৈধ সম্পদের পাহাড়: অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের বড় অংশ মঈনুল হাসান যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন, যেখানে বর্তমানে তার সন্তানরা পড়াশোনা করছে। এছাড়া নিজ এলাকা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পাইলট স্কুলের পাশে পোস্ট অফিস সংলগ্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল ৮ তলা ভবন। নিজস্ব আত্মীয়-স্বজন ও বোনদের নামে কিনেছেন শত শত বিঘা জমি। ২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করলেও অদৃশ্য কারণে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।
এ বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।