<p><br></p>
০৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার, ১০:০৫:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নোয়াহ ওকাফরের জাদুকরী গোল: টটেনহামের জয়রথ থামাল লিডস আট বছর বোনের পরিচয়ে আত্মগোপন: অবশেষে আঙুলের ছাপে ধরা পড়লেন তুর্কি পলাতক আসামি ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দিন: রুহুল কবির রিজভী "সামাজিক মাধ্যমে হুংকার নয়, দেশে ফিরে কাঠগড়ায় দাঁড়ান: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী" ষড়যন্ত্রকারীরা এক হয়ে দেশের বিরুদ্ধে পাঁয়তারা করছে: শামা ওবায়েদ গাজীপুরে উদ্‌যাপিত হলো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: জেলা প্রশাসনের নানা আয়োজন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ ও জাসদ নেতা ইনুর আশির্বাদে চাকুরী ফিরে পাওয়া সেই জামানুর এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী প্রথম শীতকালীন ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গাজা: তলিয়ে গেছে ৭০ হাজার তাঁবু ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা হয়েছিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারে পুলিশের লুট হওয়া ৩৭ রাউন্ড গুলিসহ যুবক আটক, মামলা দায়ের


মোদি সরকারের ১২ বছরে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: সোনিয়া গান্ধী; বিজেপির কড়া প্রতিক্রিয়া
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১১-২০২৬
মোদি সরকারের ১২ বছরে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: সোনিয়া গান্ধী; বিজেপির কড়া প্রতিক্রিয়া


ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা শাসনামলে দেশটির গণতন্ত্র এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সম্প্রতি ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ৭৯ বছর বয়সি এই নেত্রীর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের রাজনৈতিক আধিপত্য হ্রাসের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সোনিয়া গান্ধী বলেন, এ নিয়ে তিনি খুব বেশি হতাশ নন। তার মতে, গত ১২ বছরে দেশ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছে, তা বর্তমান সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পরও পূর্বাবস্থায় ফেরাতে দীর্ঘ সময় ও রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। তবে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে এই ক্ষতি অনুধাবন করতে শুরু করায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হলে ভারতের রাজনীতি ফের নীতি ও উন্নয়নভিত্তিক প্রতিযোগিতায় ফিরবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে কংগ্রেসের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

কংগ্রেস নেত্রীর এমন বক্তব্যের কঠোর জবাব দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সে সময় বিরোধী দলের হাজারো জ্যেষ্ঠ নেতাকে কারাবন্দী এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। কংগ্রেসের এমন অতীত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেই ভারত বিশ্বজুড়ে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে সুপরিচিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংও সুর চড়িয়ে বলেন, দেশের নয়টি রাজ্যে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা কংগ্রেসের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।

জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে সোনিয়া গান্ধী বলেন, সে সময় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে একে ইতিবাচকভাবে না দেখে তিনি স্বীকার করেন যে, পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী অতিরিক্ত কঠোরতার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিস্থিতির সমাধান হয়েছিল। এছাড়া বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে কখনো কোনো সমঝোতা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

ধারাবাহিক কয়েকটি লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের বিষয়ে সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন, মূলধারার গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে হাজারো নিপীড়নের মধ্যেও কংগ্রেস ও দলীয় নেতাকর্মীরা সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক উত্থান প্রসঙ্গে সোনিয়া বলেন, চা বিক্রেতা থেকে শীর্ষ ক্ষমতায় পৌঁছাতে মোদিকে আরএসএসের আদর্শে থেকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে কংগ্রেসের মধ্যেও ড. মনমোহন সিং বা মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো সুবিধাবঞ্চিত বা সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসার উদাহরণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরএসএসের কাছ থেকে কংগ্রেসের শেখার কিছু নেই।



শেয়ার করুন