ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা শাসনামলে দেশটির গণতন্ত্র এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সম্প্রতি ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ৭৯ বছর বয়সি এই নেত্রীর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের রাজনৈতিক আধিপত্য হ্রাসের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সোনিয়া গান্ধী বলেন, এ নিয়ে তিনি খুব বেশি হতাশ নন। তার মতে, গত ১২ বছরে দেশ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছে, তা বর্তমান সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পরও পূর্বাবস্থায় ফেরাতে দীর্ঘ সময় ও রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। তবে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে এই ক্ষতি অনুধাবন করতে শুরু করায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হলে ভারতের রাজনীতি ফের নীতি ও উন্নয়নভিত্তিক প্রতিযোগিতায় ফিরবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে কংগ্রেসের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে সোনিয়া গান্ধী বলেন, সে সময় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে একে ইতিবাচকভাবে না দেখে তিনি স্বীকার করেন যে, পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী অতিরিক্ত কঠোরতার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিস্থিতির সমাধান হয়েছিল। এছাড়া বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে কখনো কোনো সমঝোতা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক উত্থান প্রসঙ্গে সোনিয়া বলেন, চা বিক্রেতা থেকে শীর্ষ ক্ষমতায় পৌঁছাতে মোদিকে আরএসএসের আদর্শে থেকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে কংগ্রেসের মধ্যেও ড. মনমোহন সিং বা মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো সুবিধাবঞ্চিত বা সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসার উদাহরণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরএসএসের কাছ থেকে কংগ্রেসের শেখার কিছু নেই।