<p><br></p>
০৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৭:১৪:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ রেলওয়ের ৬৫ লাখ টাকার বেডিং জালিয়াতি: তদন্তে গড়িমসি ও সময়সীমা নিয়ে ধোঁয়াশা মির্জাপুরে দরপত্র ছাড়াই সরকারি বালু বিক্রির অভিযোগ, ইউএনওর বিরুদ্ধে সহযোগিতার প্রশ্ন শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ‘উদ্যোগ’ ঋণের প্রলোভনে প্রতারণা: বিকাশ বা অন্য মাধ্যমে টাকা না দেওয়ার কড়া সতর্কবার্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাদা অ্যাপ্রনের স্বপ্ন অধরা রেখেই কফিনে ফিরছে কাশ্মীরের মেডিকেলছাত্র আদনানের দেহ স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করে ট্র্যাকে ফেরানো হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোবিপ্রবিতে ৯ম জাতীয় মার্কেটিং দিবস পালিত জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির মেলা শুরু: আইসিসিবিতে জমে উঠেছে ‘বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬’ শ্রমিকদের দাবির আড়ালে বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না: বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


রেলওয়ের ৬৫ লাখ টাকার বেডিং জালিয়াতি: তদন্তে গড়িমসি ও সময়সীমা নিয়ে ধোঁয়াশা
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-১১-২০২৬
রেলওয়ের ৬৫ লাখ টাকার বেডিং জালিয়াতি: তদন্তে গড়িমসি ও সময়সীমা নিয়ে ধোঁয়াশা


রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কোচের বেড-বেডিং ধোলাই কাজের একটি দরপত্রের কাগজ জালিয়াতির ঘটনার তদন্তে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে। সাত কর্মদিবস পার হতে চললেও ৬৫ লাখ টাকার ওই কাজের জালিয়াতির ঘটনার এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (সিসিএম) দপ্তর।

এ ঘটনা তদন্তে কত দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। রেলের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত এ ধরনের ঘটনা তদন্তে সাত কর্মদিবস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন জমা দিতে কত দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তা জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন রেলওয়ের (পূর্ব) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মামুনুল ইসলাম।

তিন সদস্যের কমিটি করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর গত ২৮ অক্টোবর থেকে হিসাব করলে বৃহস্পতিবার সাত কর্মদিবস পার হচ্ছে। জানা গেছে, একটি চক্র এই তদন্ত প্রতিবেদন ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি বিভিন্ন দপ্তরেও ধরনা দিচ্ছে তারা।

জানা গেছে, রেলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক দপ্তর প্রথম শ্রেণির বেডিং ধোলাই ও ইস্ত্রির কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। গত ২ জুলাই দরপত্র খোলা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের মধ্যে তিনটি শর্ত পূরণ না করায় বাদ পড়ে। এরপর ‘প্রসিদ্ধ মদিনা শালকর’ ৬২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ও ‘এ আর কনস্ট্রাকশনের’ ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার দরপত্র যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু মদিনা শালকর সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও এসএলটি পদ্ধতির দোহাই দিয়ে তাদের বাতিল করে তিন লাখ টাকা বাড়তি খরচে এ আর কনস্ট্রাকশনকে কাজটি দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক দপ্তর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয় সরেজমিনে গিয়ে যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন বাণিজ্যিক দপ্তরের জেটিআই এনামুল হক শিকদার।

এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর বেডিংয়ের কাজে জালিয়াতির অভিযোগ এনে ‘প্রসিদ্ধ মদিনা শালকর’ নামে একটি ধোলাই প্রতিষ্ঠানের মালিক মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া রেলের (পূর্ব) জিএম বরাবর চিঠি দেন।

অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ নামে যে প্রতিষ্ঠানটি দরপত্র পেয়েছে, সেটির ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পশ্চিম মাদারবাড়ি, যুগিচাঁদ মসজিদ লেন, ২ নম্বর গলি’। কিন্তু সেই ঠিকানায় রয়েছে ‘ফ্রেশ ওয়াশ সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যেটির স্বত্বাধিকারী বিষ্ণু পাল আকাশ নামে এক ব্যক্তি। তিনি জায়গার মালিক কে এম মামুন রাজার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসা চালিয়ে আসছেন বলে জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম স্টেশন কলোনির মিঠুন নামে এক ব্যক্তি দুই মাস আগে চাকরি নেন ফ্রেশ ওয়াশ সেন্টারে। সেখানে থাকাবস্থায় তিনি মালিক বিষ্ণু পালকে ধোলাইয়ের কাজ এনে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ব্যবহার করে ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল চুক্তিনামা তৈরি করেন। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ভুয়া তৈরি করে রেলের দরপত্র কিনে আবেদন করেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ফ্রেশ ওয়াশ সেন্টারে কাজ নেওয়া মিঠুন মূলত ‘ভাই ভাই শালকর’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম স্টেশন কলোনির আইস ফ্যাক্টরি রোডের পুলিশ ব্যারাকের পেছনে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে। এ আর কনস্ট্রাকশনের নামে কাজ নিলেও মূলত ধোলাই ও ইস্ত্রির কাজ করা হয় এই ভাই ভাই শালকরে।

শাহ আমানত ও জান্নাত ট্রেডিং নামে দুই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শহীদ ওরফে কানা শহীদ এ আর কনস্ট্রাকশনের নামে জাল কাগজ ব্যবহার করে কাজ হাতিয়ে নেন।

আরও জানা গেছে, ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ ফাতেমা বেগম নামে এক নারীর নামে নিবন্ধিত, যা পাবনা থেকে নিবন্ধন করা। তবে চট্টগ্রাম থেকে এটি শহীদ নিয়ন্ত্রণ করছেন।

জালিয়াতির বিষয়টি সামনে এলে তদন্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক সিকদারকে বদলি করা হয়। এ ঘটনায় তাঁকে জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টি) হিসেবে লাকসামে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় বসানো হয় মো. মহিউদ্দিন পাটোয়ারীকে। তবে এনামুল চলতি দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত হিসেবে পোর্ট-চট্টগ্রামেও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও বদলির আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ‘ভাই ভাই লন্ড্রি’ নামে এক প্রতিষ্ঠানের ধোলাইয়ের কার্যাদেশ বাতিল করেন বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও)। যেখানে নিজস্ব কারখানায় কাজ করার কথা, সেখানে রেলের জায়গা দখল করে ধোলাইয়ের কাজ করছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলেছি।’

তবে কত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কত দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, ঠিক এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না।



শেয়ার করুন