<p><br></p>
গলায় স্টেথোস্কোপ ঝোলানোর স্বপ্ন আর বুকভরা আশা নিয়ে ভারত থেকে কুমিল্লায় এসেছিলেন আদনান আলতাফ রাথার। গায়ে জড়ানোর কথা ছিল চিকিৎসকদের প্রতীকী সাদা অ্যাপ্রন। কিন্তু সেই স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে গেল; সাদা অ্যাপ্রনের পরিবর্তে তার নিথর দেহ এখন বন্দি সাদা কফিনে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই তার মরদেহ স্বজনদের কাছে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
পরিচয় ও পটভূমি
নিহত আদনান ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বুনপাড়া দাঙ্গালপাড়ার আলতাফ হোসেন রাথারের ছেলে। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলায় অবস্থিত
যেভাবে মর্মান্তিক পরিণতি কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, পড়াশোনায় কিছুটা অমনোযোগী ও অসুস্থতার কারণে আদনান দুই বছর পিছিয়ে পড়েছিলেন। পরীক্ষা উপলক্ষে গত ৩০ অক্টোবর তার মা নিগাদ বেগম তাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী আদনান ছাত্রাবাসে এবং তার মা কলেজের ছাত্রীনিবাসে অবস্থান করছিলেন। গত সোমবার রাত থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন আদনান। সার-রাত সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় জিডি করেন তার উদ্বিগ্ন মা। অবশেষে বুধবার সকালে কলেজ-সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই সংবাদে কলেজ ক্যাম্পাসে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া; মায়ের বুকফাটা কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ প্রহরায় মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) হিমঘরে রাখা হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।