<p><br></p>
০৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৬:১১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্রমিকদের দাবির আড়ালে বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না: বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ট্রাভেল পাস নয়, বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির পথেই হাঁটবে ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক অসন্তোষ: গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন ব্যবসায়ীরা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় বিপর্যয়: ডেমোক্র্যাটদের অভিশংসন হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনের ভেতরে কোন্দল ষড়যন্ত্রকারীরা পার পাবে না, ২০২৪ সালের মতোই জনগণ তাদের জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিয়া ও সরকারের ত্রিমুখী সমন্বয়ের তাগিদ মাহদী আমিনের জাতীয় দলের অধ্যায় চুকিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন রোনালদো পানছড়িতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন রাণীনগরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু


সুন্দরবনের প্রাণ ‘সুন্দরী’ গাছে সুদিন: বেড়েছে কার্বন ধারণক্ষমতা ও সংখ্যা
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-১১-২০২৬
সুন্দরবনের প্রাণ ‘সুন্দরী’ গাছে সুদিন: বেড়েছে কার্বন ধারণক্ষমতা ও সংখ্যা


সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী গাছের জন্য স্বস্তিদায়ক খবর দিয়েছে বন বিভাগ। শতাব্দীপ্রাচীন ‘আগামরা’ বা টপ ডাইং রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় গত চার দশকে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছের কার্বন ধারণক্ষমতা বেড়েছে ২১ শতাংশ। পরিমাণের হিসেবে যা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।

বন বিভাগের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগাক্রান্ত সুন্দরী গাছের সংখ্যা যেমন ৬ শতাংশ কমেছে, তেমনি গাছটির মোট সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বা ৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সুন্দরী গাছের আগামরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মাথার দিকের ডালপালা ও পাতা শুকিয়ে মারা যাওয়ার সমস্যাটি বেশ পুরোনো। ১৯২০ সালের ব্রিটিশ আমলের জরিপেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের দিকে ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজান থেকে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায় এবং এই রোগের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে।

তবে আশার কথা হলো, ১৯৮৫ সালের পর থেকে সুন্দরী গাছ মধ্যম মাত্রার লবণাক্ততার সঙ্গে খাপ খাইয়ে প্রাকৃতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। বর্তমানে গাছের বীজ থেকে নতুন চারা জন্মানোর পাশাপাশি বনের সবুজায়নও তরান্বিত হচ্ছে।

সুন্দরবনের কার্বন মজুত আরও নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করতে চলতি বছর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও)-র সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বন বিভাগ। ‘ব্লু কার্বন ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল আইডি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বনের মাটির নিচে থাকা অংশ, পাতা ও কাণ্ডে প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৬০ মেগাগ্রাম কার্বন ধারণের সক্ষমতা রয়েছে।

এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের এই বর্ধিত কার্বন ধারণক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট বাজারে অংশ নেওয়ার উজ্জ্বল সুযোগ রয়েছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার সরকার মনে করেন, শুধু আক্রান্ত গাছ শনাক্ত না করে রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম নিশ্চিত করার মাধ্যমে একে বন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।



শেয়ার করুন