<p><br></p>
০৩ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৭:০৫:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাঠদান বন্ধ রেখে খেলার মাঠে গরুর হাট: কুষ্টিয়ার চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে ক্ষোভ ধর্মের অপব্যবহার ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিতেও ফাটল! ৬২ বিলিয়ন ডলারের ঋণের চাপে চীনের ক্রেডিট মার্কেটে বড় ঝাঁকুনি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিতেও ফাটল! ৬২ বিলিয়ন ডলারের ঋণের চাপে চীনের ক্রেডিট মার্কেটে বড় ঝাঁকুনি সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: জিম্মি থাকা ৫ জেলে উদ্ধার, অস্ত্র ও গুলি জব্দ সুইডিশ দূতাবাসের বড় সিদ্ধান্ত: ঢাকায় শেনজেন ভিসা সংক্রান্ত সেবা স্থগিত মুকসুদপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা গোপালগঞ্জে কবি ও সাংবাদিকের স্ত্রী রিনা রানী মধু নেই ‎নাসিরনগরে চাঞ্চল্যকর অটোচালক হত্যা: মূল ঘাতক গ্রেফতার, ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যার বর্ণনা গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ: ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি


ঢাবির অধিভুক্ত উদয়ন স্কুল: এআই দিয়ে ছাত্রীদের ছবি বিকৃতির প্রতিবাদ করায় ১০ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার نما বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-১১-২০২৬
ঢাবির অধিভুক্ত উদয়ন স্কুল: এআই দিয়ে ছাত্রীদের ছবি বিকৃতির প্রতিবাদ করায় ১০ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার نما বিক্ষোভ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি তৈরি, অশ্লীল বার্তা পাঠানো এবং ধর্ষণের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় উল্টো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন একই শ্রেণির ১০ জন প্রতিবাদী শিক্ষার্থী। দীর্ঘ প্রায় ২৫ দিন ধরে তাদের ক্লাসে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিচার ও নিজেদের পাঁচ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম মুনিম দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও সংবেদনশীল অঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করে আসছে। সম্প্রতি সে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কয়েকজন ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি বিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী ও শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের ছেলে। গত অক্টোবরের শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তের বাবা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টর বিদ্যালয়ে এসে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এরপর গত ৮ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে ওই ১০ শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

২৫ দিন ধরে ক্লাস বন্ধ ও হুমকি: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এরপর থেকে প্রায় ২৫ দিন ধরে ওই ১০ শিক্ষার্থীকে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও ক্লাস থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এমনকি আন্দোলন চালিয়ে গেলে তাদের স্কুল থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার সকালে এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রেণিকক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বাইরে এসে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তাদের হাতে ‘হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’ এবং ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের কি বাবা রিকশাওয়ালা?’-এর মতো প্রতিবাদী স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি: ১. ছাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। ৩. প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করা। ৪. পাঠদান থেকে বঞ্চিত ১০ শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়া। ৫. প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন।

তদন্ত কমিটি নিয়ে অনাস্থা: ঘটনা তদন্তে বিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দুই সহকারী প্রক্টরকে নিয়ে কমিটি গঠন করেছে, তাদের প্রতিও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ওই দুই প্রক্টরই বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের একজন অভিযুক্তের প্রতিবেশী। এছাড়া তদন্তের নামে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এ বিষয়ে উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, ‘তদন্তের স্বার্থে ওই শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনাস্থার বিষয়টি আমি জেনেছি। আজকেই উপাচার্যের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগটি তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।



শেয়ার করুন