<p><br></p>
ভারী বৃষ্টিপাত এবং মৌসুমের প্রথম তীব্র শীতকালীন ঝড়ে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টির ফলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অন্তত ৭০ হাজার অস্থায়ী তাঁবু পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ঝড়ের প্রথম ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ছুঁয়েছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বহু ভবন এখন ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ১৫ শতাধিক উদ্ধার আকুতি পাওয়া গেছে।
প্রধান উদ্বেগের বিষয়সমূহ:
আশ্রয় সংকট: ঝড় শুরু হওয়ার আগেই প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার তাঁবু ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে গাজায় অন্তত ৩ লাখ পরিবারের উপযুক্ত আশ্রয় প্রয়োজন।
মানবিক পরিস্থিতি: জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গাজার মোট জনসংখ্যার ৯৪ শতাংশ (প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ) বর্তমানে জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় আছেন। সংস্থাটির শীতকালীন সমীক্ষায় ১১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪টি ভবনকে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ত্রাণ ও সরঞ্জামের ঘাটতি: পানিনিষ্কাশন পাম্প ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তীব্র সংকটের কারণে এককভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স।
কর্তৃপক্ষ অবরুদ্ধ সীমান্ত বজায় রেখে ত্রাণ ও আশ্র্যসামগ্রী প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে দায়ী করেছে। সেই সঙ্গে নারী, শিশু ও রোগীদের জীবন রক্ষায় অবিলম্বে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার জোর দাবি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত শীতেও আশ্রয়শিবিরে ঠাণ্ডাজনিত কারণে ২১ জন শিশুসহ মোট ২৪ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছিল।