<p><br></p>
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে আটক ১৫০ জনের বেশি আফগান অভিবাসীকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে তালেবান শাসিত দেশে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মূল বিষয়সমূহ একনজরে:
কারা রয়েছেন ঝুঁকিতে: বহিষ্কারের তালিকায় এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাঁদের স্বজনেরা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। এছাড়া একজন সমকামী ব্যক্তি এবং অন্তত একজন নারীও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
পরিকল্পনা যেভাবে ছিল: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায়, প্রথমে আটক আফগানদের পাকিস্তানে এবং সেখান থেকে আফগানিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকার প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
কংগ্রেস সদস্যদের আপত্তি: এই বহিষ্কার প্রক্রিয়া আটকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৬৬ জন সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা এসব আফগানকে সুরক্ষা দেওয়ার নৈতিক দায়িত্ব ওয়াশিংটনের রয়েছে।
তালেবানের প্রতিক্রিয়া: আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি জানিয়েছেন, তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং অন্য দেশের নাগরিকদের নিয়ে দর-কষাকষি হওয়া উচিত নয়।
আদালতের সাময়িক স্থগিতাদেশ: নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক ভ্যালেরি ক্যাপ্রোনি আগামী শনিবার পর্যন্ত আফগান নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার না করার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের কোনো ফ্লাইট নির্ধারিত নেই এবং আদালত সরকারকে এই বক্তব্য মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইনজীবীরা আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানালেও একে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের আশঙ্কা, এই আদেশের মেয়াদ শেষ হলে বহিষ্কারের উদ্যোগ আবার শুরু হতে পারে, যা আটক আফগানদের জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।