কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করে টেইলর সুইফটের বিয়ের ছবি ভাইরাল! নেপথ্যে কে?
অনলাইন ডেস্ক
-
আপডেট করা হয়েছে : ০৩-১১-২০২৬
পপ তারকা টেইলর সুইফট ও মার্কিন ফুটবল তারকা ট্র্যাভিস কেলসির রাজকীয় বিয়ের আয়োজন ঘিরে গোপনীয়তার কোনো কমতি ছিল না। অতিথিদের পরিচয় যাচাই, নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা গোপনীয়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং অনুষ্ঠানস্থলে মুঠোফোন জমা নেওয়ার মতো কঠোর সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত নিরাপত্তার বেড়াজাল ভেদ করে সম্প্রতি বিয়ের অপ্রকাশিত কিছু ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন টেইলর সুইফট। কে বা কারা এই ছবিগুলো ফাঁস করেছেন, তা খুঁজে বের করতে এবার ব্যক্তিগত তদন্তকারী (প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর) নিয়োগের কথা ভাবছেন এই গায়িকা।
গত ৩ জুলাই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে প্রায় ১ হাজার অতিথির উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা যুগল। অনুষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণ গোপনীয় রাখতে শুরু থেকেই কড়াকড়ি আরোপ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু গত ২৬ অক্টোবর ‘ডেইলি মেইল’-এ বিয়ের কিছু গোপন ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে শোরগোল শুরু হয়।
‘স্টার ম্যাগাজিন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবি ফাঁসের ঘটনায় মানসিকভাবে বেশ অস্বস্তিতে আছেন টেইলর। তাঁর জোরালো সন্দেহ, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের কোনো কর্মী কিংবা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা প্রযোজনা দলের ভেতর থেকেই কেউ ছবিগুলো বাইরে পাচার করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদও করছেন তিনি। প্রয়োজনে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর নিয়োগ করে দোষীকে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, টেইলর চেয়েছিলেন তাঁর জীবনের বিশেষ এই দিনটি কেবল তাঁদের নিজেদের ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকুক। কিন্তু ছবি ফাঁস হওয়ায় সেই একান্ত গোপনীয়তায় বড় ধরনের ছেদ পড়েছে। অন্যদিকে, স্ত্রী টেইলরকে মানসিকভাবে শান্ত করার চেষ্টা করছেন ট্র্যাভিস কেলসি। তিনি টেইলরকে বোঝাচ্ছেন যে, ছবি ফাঁস হলেও তাঁদের সুন্দর মুহূর্ত ও স্মৃতিগুলো অমলিন থাকবে। তবে বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারছেন না ক্ষুব্ধ গায়িকা।
কঠোর নিরাপত্তার নিয়মাবলি:
‘ইউএসএ টুডে’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বিয়েতে নিরাপত্তার মাত্রা ছিল আকাশচুম্বী:
পরিচয় যাচাই ও চুক্তি: আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার আগেই অতিথিদের পরিচয় যাচাই এবং গোপনীয়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়েছিল।
ডিজিটাল জলছাপ: ডিজিটাল আমন্ত্রণপত্রে বিশেষ জলছাপ রাখা হয়েছিল, যাতে কোনো আমন্ত্রণপত্র ফাঁস হলে সংশ্লিষ্ট অতিথিকে সহজেই শনাক্ত করা যায়।
ফোন জমা: অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় অতিথিদের মুঠোফোন জমা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ট্র্যাভিস তাঁর ‘নিউ হাইটস’ পডকাস্টে ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সাফাই গেয়ে জানান, ফোন না থাকলে অতিথিরা ছবি তোলার চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে আয়োজনের প্রতিটি মুহূর্ত সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারেন।
সাজসজ্জা পুড়িয়ে ফেলার চাঞ্চল্যকর গুঞ্জন:
ফাঁস হওয়া ছবিগুলোতে দেখা গেছে, বিখ্যাত ক্রীড়াঙ্গন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনকে চমৎকার রোমান্টিক বাগানের রূপ দেওয়া হয়েছিল। পীচ ও সাদা রঙের সাজসজ্জা, সবুজ গাছপালা ও নানা ফুলে সাজানো হয়েছিল পুরো ভেন্যু।
তবে এর চেয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ‘ডেইলি মেইল’। তাদের একটি সূত্র দাবি করেছে, বিয়ের সাজসজ্জার কোনো সামগ্রী যাতে চুরি হয়ে পরবর্তীতে নিলামে বিক্রি করা না হয়, সে জন্য অনুষ্ঠান শেষে ওই সাজসজ্জার সব উপাদান পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই দম্পতি! আর এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন সমালোচনা—অনেকেই বিষয়টিকে অতিরিক্ত অপচয় বলে মন্তব্য করছেন। যদিও এ বিষয়ে সেলিব্রিটি দম্পতির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শেয়ার করুন