<p><br></p>
০৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার, ১০:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নোয়াহ ওকাফরের জাদুকরী গোল: টটেনহামের জয়রথ থামাল লিডস আট বছর বোনের পরিচয়ে আত্মগোপন: অবশেষে আঙুলের ছাপে ধরা পড়লেন তুর্কি পলাতক আসামি ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দিন: রুহুল কবির রিজভী "সামাজিক মাধ্যমে হুংকার নয়, দেশে ফিরে কাঠগড়ায় দাঁড়ান: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী" ষড়যন্ত্রকারীরা এক হয়ে দেশের বিরুদ্ধে পাঁয়তারা করছে: শামা ওবায়েদ গাজীপুরে উদ্‌যাপিত হলো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: জেলা প্রশাসনের নানা আয়োজন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ ও জাসদ নেতা ইনুর আশির্বাদে চাকুরী ফিরে পাওয়া সেই জামানুর এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী প্রথম শীতকালীন ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গাজা: তলিয়ে গেছে ৭০ হাজার তাঁবু ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা হয়েছিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারে পুলিশের লুট হওয়া ৩৭ রাউন্ড গুলিসহ যুবক আটক, মামলা দায়ের


আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ ও জাসদ নেতা ইনুর আশির্বাদে চাকুরী ফিরে পাওয়া সেই জামানুর এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১১-২০২৬
আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ ও জাসদ নেতা ইনুর আশির্বাদে চাকুরী ফিরে পাওয়া সেই জামানুর এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী


জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) জামানুর রহমান একজন ফ্যাসিবাদের দোসর। এক সময় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিদের আত্মীয় ছিলেন। ছিলেন তাদের আস্থাভাজন ও আজ্ঞাবহ। ফলে বিভিন্ন অনিয়ম, নারী কেলেঙ্কারীর প্রমান থাকা সত্তেও তার শাস্তি হয়নি। এমনিকি বিভাগীয় মামলা, দুদকে অভিযোগ সবই যেন ম্যাজিকের মতো ভ্যানিস হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে ওই দপ্তরের উচ্চ পদস্থ তার একাডেমিক ও হলের সিনিয়র থাকায় তিনি সব অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যান। এর সুবাদে অনেককে বদলির ভয়ও দেখিয়ে তিনি সকল কাজ করিয়ে নেন। বিপুল পরিমান টাকাও হাতিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে দুদক বা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে তা আমলে আসেনি।সরকার যেই আসুক জামানুর তার। এটা তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট। যখন যেখানে যে রুপ ধরতে হয়, তিনি তখন সেই রুপ ধারণ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, সাময়িক বরখাস্তের সময় তিনি জীবন ধরাণ ভাতা ছাড়া অন্য কোন ভাতা বা সুবিধা পাননা। কিন্তু তিনি ওই সময়ে ভবিষ্য তহবিল থেকে ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এ ছাড়া একই সময়ে তিনি তৎকালিন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সুপারিশে লম্বা ছুঁটিও ভোগ করেন।কুষ্টিয়ায় তার নিজ বাড়ী এবং মেহেরপুরে তার শশুর বাড়ি হওয়ার সুবাদে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মাহবুবুল হক হানিফ, হাসানুল হক ইনুর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও বেতন নিয়েছেন ৪র্থ গ্রেডের। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রীর বিশেষ আস্থাভাজন হওয়ায় পূর্বের তারিখে প্রমোশন নেন। যা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ওপেন সিক্রেট। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী জামানুর রহমান আওয়ামী লীগের সময় থেকে এক টানা পাঁচ বছর খুলনা সার্কেলে চাকুরী করছেন। ৫ই আগষ্টের পর রুপ বদলে তিনি এখন আওয়ামী লীগ বিরোধি সেজেছেন।

খুলনার তত্ব¦ধায়ক প্রকৌশলী থাকা কালে তার ভয়ে দপ্তরের কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারতো না। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানি এবং মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হতো। দলবাজ এ প্রকৌশলী সিন্ডিকেট করে একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বার বার কাজ দিয়েছেন। নিম্নমানের কাজ করে বিল তুলতে অসাধু ঠিকাদারকে সাহায্য করেছেন। কোন কর্মকর্তা নিম্নমানের কাজের বিল দিতে অসম্মতি জানালে তার বিরুদ্ধে কারসাজি করে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করতেন। এ নিয়ে তার আওয়াতাধীন বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীদের নানান কৌশলে হুমকি দিতেন তিনি।৫ই আগষ্টের পর তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ বিরোধি বলে দাবী করছেন। তিনি এখন আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিষ্ট বলে গালি দেন। আর এক সময় তিনিই ফুলের ডালী নিয়ে গেছেন টুঙ্গিপাড়ার মাজারে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে তার বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন রয়েছে বলে সবার কাছে প্রচার করছেন।বাগেরহাট জেলার একজন প্রকৌশলী বলেন, তিনি অপকর্ম করতে সবসময় চাপ প্রয়োগ করেতেন। তার অন্যায় আবদার না শুনলে আওয়ামী লীগের ওমুক লিডার বিষয়টা দেখতে বলেছেন বলে শাষিয়ে তার লক্ষ্য পূরণ করে নিতেন। তাতেও কাজ না হলে বিভিন্ন মহল দ্বারা হেনস্থা করেতেন তিনি। খুলনা জোনের বিভিন্ন জেলায় টেন্ডার কারসাজি এবং অসাধু ঠিকাদারের নিম্ন মানের কাজের বিল জোর করে পাশ করিয়ে হাতিয়েছেন বিপুল পরিমান অর্থ।অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে তার আস্থাভাজন এবং আওয়ামী লীগের ঠিকাদারদের কাজ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অনভিজ্ঞ ঠিকাদার হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ জোরপূর্বক তিনি তার সিন্ডিকেটকে দিতে বাধ্য করেন। তিনি তার কৌশল ব্যবহার করে এবং অর্থের জোরে বার বার পার পেয়ে যান। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- জামানুর রহমান ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ লোক। তিনি শতভাগ আওয়ামী সুবিধাভোগী।বিগত ১৫ বছর ধরে তিনি আওয়ামী লীগের গোলামী করে আসছেন। শত প্রকার অনিয়ম,দুর্নীতি করেও রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বর্তমান সরকার আমলে তিনি নিজেকে বিএনপি সমর্থিত লোক বলে দাবী করে তার অতীত অপরাধ কর্মকান্ড ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

নারী কেলেংকারী,সামযিক বরখাস্ত কাহিনী:জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে জামানুর রহমান নিজের যৌন ক্ষুধা মেটাতে চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের নিজের জালে ফাঁসান বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে নানা অপবাদ দিয়ে হেনস্তা এমনকি ক্ষমতার অপব্যহার করে তরুণীদের পাগল সাজিয়ে জোরপূর্বক পাগলাগারদে পাঠানোর মতো অভিযোগও আছে জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে।২০২৩ সালে প্রকৌশলী জামানুর রহমান এক তরুণীকে পাগল অপবাদে ভর্তি করিয়েছেন মানসিক হাসপাতালে। ভাগ্যের জোরে পাবনা মানসিক হাসপাতাল থেকে মুক্তি মিললেও ওই তরুণীর দিন কাটছে অজানা আতঙ্কে।ভুক্তভোগী ওই তরুণীর অভিযোগ, জামানুরের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় শিকার হয়েছেন নির্যাতনের, দীর্ঘ সময় থাকতে হয়েছে পাবনা মানসিক হাসপাতালে। অজ্ঞাত ফোন কল পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন স্বামী। এরপর পাবনা মানসিক হাসপাতাল থেকে মুক্তি মেলে তার।আদালতে তরুণীর দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে, দীর্ঘদিন কীভাবে জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী জামানুর রহমান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাকরি বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি চাকরি দেওয়ার নামে কীভাবে তরুণীদের ফাঁসাতেন নিজের জালে। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে জামানুর রহমানের কাছে চাকরির জন্য গেলে তিনি বিভিন্ন ধরনের স্বপ্ন দেখান। এমনকি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীও তার খুবই ঘনিষ্ঠ বলে জানান তিনি। তাকে যা বলবে তাই প্রধান প্রকৌশলী করবেন বলে জানান জামানুর রহমান। তার কাছে একটা চাকরি দেওয়া তো সামন্য একটা ব্যাপার। যেন আমার চাকরি হয়েই গেছে। এরপর একপর্যায়ে প্রকৌশলী জামানুর আমাকে বলেন, ‘এমনি এমনি এ জগতে কেউ কাউকে কিছুই দেয় না চাকরি তো দূরের কথা। কিছু পাইতে হলে কিছু দিতে হয়।’ জামানুর রহমানের এমন মন্তব্যের পর তরুণী প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে পেরে পিছু হটতে শুরু করলেই তার জীবনে নেমে আসে অমানিশার কালো অন্ধকার।ভুক্তভোগী ওই তরুণীর স্বামী জানান, ফেনী থেকে একটা ফোনকল আসে এবং অপর প্রান্ত থেকে আমার স্ত্রীর নাম করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বলেন, তিনি পাবনা মেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এরপরই আমি বিষয়টি নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হই এবং আদালতের নির্দেশে আমার স্ত্রীকে মানসিক হাসপাতাল থেকে মুক্ত করি। তিনি বলেন, তাদের অনেক টাকা এবং লোকজন আছে। তাই আমরা জীবন ও সম্মান রক্ষার্থে আত্মগোপনে আছি। ক্ষতি যা হওয়ার তা তো হয়েছে, এখন বেঁচে থাকতে চাই।এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বরাবরে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর দাখিলকৃত এক অভিযোগে দেখা যায়, তিন পৃষ্ঠার ওই অভিযোগের ২০ নম্বর দফায় জামানুর রহমানের নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমানকে চাকরিতে নিয়োগের প্রার্থী জোগান দেন প্রকৌশলী জামানুর রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় এক তরুণীকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন সম্মানহানির পর তাকে চাকরি দিতে না পারায় ভুক্তভোগী তরুণী মুখ খুলতে পারে এমন ভয় থেকে তরুণীকে প্রথমে শিকলবন্দি করে আটকে রাখেন এবং পরে পাগল অপবাদে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন প্রকৌশলী জামানুর রহমান।বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তেও উঠে এসেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমানের তরুণীদের নিজের জালে ফাঁসানোর ঘটনাটি শিহরিত হয়ে ওঠার মতো। এমনকি প্রকৌশলী জামানুর রহমান তার অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রমাণ নষ্ট করতে ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে কীভাবে তাকে মানসিক রোগী সাজিয়েছেন।এই ঘটনার পর প্রকৌশলী জামানুর রহমানকে চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দীর্ঘদিন রবখাস্ত থাকার পর তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতা কুষ্টিয়ার এমপি মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মাধ্যমে তদবীর করে বরখাস্ত আদেশ বাতিল করিয়ে চাকুরীতে যোগদান করেন।এ বিষয়ে প্রকৌশলী জামানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওটা অনেক আগের ঘটনা। ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়েগেছে বলে পাশ কাটিয়ে যান।এমন একজন ফ্যাসিবাদের দোসর, দুর্নীতিবাজ ও দু:চরিত্র প্রকৌশলীকে কিভাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী পদে পদায়ন করা হলো সেটাই এখন দেশবাশীর প্রশ্ন।



শেয়ার করুন