<p><br></p>
প্রকৃত মালিক দেশের বাইরে অবস্থানকালে মোটা অঙ্কের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তার মূল্যবান সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তরের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির মোটা অঙ্কের অর্থ উৎকোচ হিসেবে গ্রহণ করে তার বিশ্বস্ত লোক পাঠিয়ে কমিশনের মাধ্যমে এই জাল দলিল রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করেছেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী মালিক গাজী আছাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কাজে গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে ১৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই সময়েই, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে, সাব-রেজিস্ট্রারের প্রত্যক্ষ মদদে এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ৭৬৯০ নম্বর হেবার ঘোষণা দলিলটি সম্পাদন করা হয়। মূল মালিক প্রবাসে থাকা সত্ত্বেও তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য এক ভুয়া ব্যক্তিকে আছাদুজ্জামান সাজিয়ে ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও ভুয়া টিপসই ব্যবহার করে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করা হয়।
বিদেশ থেকে দেশে ফিরে ভূমি অফিসে খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে প্রকৃত মালিক বিষয়টি জানতে পারেন। পরবর্তীতে তিনি খতিয়ান ও রেকর্ডপত্র অনুসন্ধান করে দেখেন যে, তার অজান্তে ও প্রবাসে অবস্থানকালে এই জালিয়াতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এই নজিরবিহীন জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তাঁর ভাইসহ পরিবারের অপরাপর সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। তবে মূল কারিগর ও জালিয়াতির মূল সুবিধাভোগী পথ সুগমকারী সাব-রেজিস্ট্রার বড় অঙ্কের অর্থের প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন।
সূত্র জানিয়েছে, এই জাল দলিলটি সম্পাদনের জন্য সাভারের একটি বাড়িতে যান মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার দেলোয়ার, আরিফ এবং নকলনবিশ জব্বার। তারাই যাচাই-বাছাই করে দলিলের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেন। পরে সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির দলিলটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করেন।, তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নকলনবিশ জব্বারের প্ররোচনায় পড়েই দলিলটি করেন সাব-রেজিস্ট্রার।
ভুক্তভোগী আছাদুজ্জামান বলেন, আমার আপন ছোট ভাই, বোন ও তার জামাই মিলে এই প্রতারণা করেছে। আমার বোন জামাইকে ভুয়া দাতা সাজিয়ে জাল দলিল করিয়ে নিয়েছে। এই আধুনিক যুগে এ ধরনের অপরাধ সাব রেজিস্ট্রারের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া অসম্ভব।
এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীর দাবি, কমিশনের নামে ঘরে বা অফিসে বসে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে যিনি এ ধরণের ভূয়া ও জাল দলিল পাস করালেন, সেই সাব-রেজিস্ট্রারকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।