<p><br></p>
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একাংশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫-১৬ সালে সহকারী অথরাইজড অফিসার হিসেবে যোগ দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যেই চলতি দায়িত্বে ‘অথরাইজড অফিসার’ পদে উন্নীত হন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা শহরের নকশা অনুমোদন ও ইমারত নির্মাণ তদারকির সুবাদে তারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং পরবর্তীতে নানা কৌশলে দেশ ত্যাগ করেছেন।
মাকিদ এহসান (জোন ৪/১): রাজউক চেয়ারম্যানের ছুটি নামঞ্জুর সত্ত্বে গৃহায়ণ ও পূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবকে ধরে ১৫ দিনের ছুটি পান। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়ে আর ফেরেননি।
মো. ইমরুল হাসান (জোন ৩ ও ৪): অনুমতি ছাড়াই এবং অন্য পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া যান। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও পূর্বাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্বালানি খাতের ১২ লাখ টাকার অডিট আপত্তিসহ বিভাগীয় মামলা রয়েছে।
শেখ মাহাব্বির রনি (জোন ৩/১): ইমরুল হাসানের পথ ধরে বিদেশে গিয়ে আর কর্মস্থলে যোগ দেননি।
মো. সাইফুল ইসলাম (সাইফ) (জোন ৮/২): ২০২৫ সালে জাপানে ১ বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামে গিয়ে সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়া চলে যান।
মোহাম্মদ হোসেন (নির্বাহী প্রকৌশলী, সিভিল): গণপূর্ত থেকে প্রেষণে এসে ২০২০ সালে ৩ বছরের পিএইচডি ছুটিতে বিদেশে যান, তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও আর ফেরেননি।
জোন-৭/১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াস বিনানুমতিতে বিদেশে গেলেও স্থায়ী হতে না পেরে দেশে ফেরেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হলেও তৎকালীন প্রভাবশালী প্রধান প্রকৌশলীর সহায়তায় তা রফা-দফা করে তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগ দেন।
শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমাম (জোন ১/১): বড় বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া এবং রূপায়ণ হাউজিংকে খাস জমি দেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুদকের মামলার আসামি হন। বর্তমানে তারও বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
‘প’ আদ্যক্ষরের দুই কর্মকর্তা: এদের একজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলছে এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
রাজউকের ২৪টি জোনে বর্তমানে ১৮-২০ জন অথরাইজড অফিসার দায়িত্বে রয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নকশা অনুমোদনে ভবনের আকারভেদে ৩ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়। ফার (FAR) ও সেটব্যাকের নিয়ম অমান্য করে ইমারত নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়াই এদের মূল কাজ।
প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, "অনুমোদন ছাড়া বিদেশে গেলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সাথে সখ্য থাকলে অনেকেই ছাড় পেয়ে যান। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাজউকের বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি দুদক ও বিএফআইইউ (BFIU)-এর মাধ্যমে অর্থপাচারের বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।"
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, "যারা অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান করছেন বা ছুটির পর ফেরেননি, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"