<p><br></p>
রাজশাহী: আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং ডিজিটালাইজেশনের দাবি সত্ত্বেও দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রাজশাহী সার্কেল কার্যালয়। সহকারী পরিচালক শাহজাহানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
পক্ষান্তরে, মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষার উত্তর বলে দেওয়া, ভাইভায় বিশেষ ছাড় এবং ড্রাগ টেস্ট ছাড়াই লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার মতো জালিয়াতি নিয়মিত ঘটছে।
গাড়ি ও মোটরসাইকেলের যৌথ লাইসেন্স: ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
প্রিলিমিনারি ও ভাইভা পাস: ৩ হাজার টাকা।
সরাসরি লাইসেন্স হস্তান্তর: ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত।
লাইসেন্স নবায়ন ও শ্রেণি উন্নয়ন: সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।
ফিটনেস ও বায়োমেট্রিক বিচ্যুতি সমাধান: যানবাহনভেদে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
জাতীয় খানা জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিআরটিএ সেবাগুলোতে ৭৯.৩ শতাংশ মানুষ অনিয়মের মুখোমুখি হন এবং ৬৩.৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি ঘুষ দিতে বাধ্য হন। রাজশাহী সার্কেলের বর্তমান পরিস্থিতি সেই জাতীয় চিত্রের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ড্রাইভিং স্কুল ও প্রশিক্ষকরাও বাধ্য হয়ে প্রার্থীদের ঘুষ দিয়ে কাজ সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, রাজশাহী বিআরটিএ কার্যালয়ে সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে অবিলম্বে এই দালাল চক্রকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে এবং জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।