রাজশাহী: আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং ডিজিটালাইজেশনের দাবি সত্ত্বেও দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রাজশাহী সার্কেল কার্যালয়। সহকারী পরিচালক শাহজাহানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন (রিনিউ), শ্রেণি উন্নয়ন, স্মার্টকার্ডের বায়োমেট্রিক, যানবাহনের ফিটনেস সনদ এবং ডিজিটাল নম্বর প্লেট—প্রতিটি কাজেই অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেধা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অগ্রিম ঘুষ না দেওয়ায় রাজশাহী ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও ড্রাইভিং পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে অকৃতকার্য করা হচ্ছে।
পক্ষান্তরে, মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষার উত্তর বলে দেওয়া, ভাইভায় বিশেষ ছাড় এবং ড্রাগ টেস্ট ছাড়াই লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার মতো জালিয়াতি নিয়মিত ঘটছে।
আইনি ঝুঁকি এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি নগদ লেনদেন থেকে নিজেদের দূরে রাখলেও, পেছনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু হাতুড়ে কর্মী ও আনসার সদস্যদের ওপর। অফিস সহায়ক আলী এবং আনসার সদস্য নাজমুল, লিটু ও সোহেলদের মতো কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত এই চক্র প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করে। পরবর্তীতে সেই অর্থ নির্দিষ্ট হারে প্রশাসনের বিভিন্ন টেবিলে ভাগ-বাটোয়ারা হয়।
কার্যালয়টিতে সেবার ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঘুষের হার বা রেটকার্ড চালু রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে:
গাড়ি ও মোটরসাইকেলের যৌথ লাইসেন্স: ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
প্রিলিমিনারি ও ভাইভা পাস: ৩ হাজার টাকা।
সরাসরি লাইসেন্স হস্তান্তর: ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত।
লাইসেন্স নবায়ন ও শ্রেণি উন্নয়ন: সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।
ফিটনেস ও বায়োমেট্রিক বিচ্যুতি সমাধান: যানবাহনভেদে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
জাতীয় খানা জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিআরটিএ সেবাগুলোতে ৭৯.৩ শতাংশ মানুষ অনিয়মের মুখোমুখি হন এবং ৬৩.৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি ঘুষ দিতে বাধ্য হন। রাজশাহী সার্কেলের বর্তমান পরিস্থিতি সেই জাতীয় চিত্রের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ড্রাইভিং স্কুল ও প্রশিক্ষকরাও বাধ্য হয়ে প্রার্থীদের ঘুষ দিয়ে কাজ সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেলের সহকারী পরিচালক দাবি করেছেন, বেশিরভাগ সেবা ডিজিটালাইজড হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। খাতায় পাস করা প্রার্থীকে ফেল করানোর কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করলেও, ক্ষেত্রবিশেষে কিছু শিথিলতা থাকতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। পাশাপাশি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের সার্বক্ষণিক তদারকি করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, রাজশাহী বিআরটিএ কার্যালয়ে সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে অবিলম্বে এই দালাল চক্রকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে এবং জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
সম্পাদকমন্ডলীর উপদেষ্টা -বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন অর রশিদ, সম্পাদক -মো:এনায়েত হোসেন, সহযোগী সম্পাদক- এইচ এম মানিক
উপ-সম্পাদক- ইঞ্জিনিয়ার গোলাম ফারুক ওবি,বার্তা সম্পাদক- সবুজ ইসলাম, লিগ্যাল এডভাইজার- এডভোকেট শামীমা আক্তার।