ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু কৌশলগত এলাকায় শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আকস্মিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ অমান্য করে চলাচলের সময় মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
১. উপকূলীয় শহরগুলোতে বিস্ফোরণ স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। তবে এসব এলাকায় আসলেই কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণগুলো দেশটির চলমান সামরিক তৎপরতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে, আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো যোগসূত্র নেই।
২. ট্যাংকারে মাইন হামলা রবিবার (৮ নভেম্বর) ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির ‘অননুমোদিত পথে’ যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার মাইন বিস্ফোরণের মুখে পড়ে এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। কৌশলগত এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইরান আগে থেকেই কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে।
৩. মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কঠোর অবস্থান জানান দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এর আগে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত পরিসরের একটি হামলার ঘটনাও সামনে এসেছিল।