ময়মনসিংহ বিভাগের অন্যান্য জেলার তুলনায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে পিছিয়ে থাকা নেত্রকোনায় এই কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ভুল নাগরিক নিবন্ধন ও অত্যাবশ্যকীয় পরিসংখ্যান (সিআরভিএস) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে এবং ‘বাংলাদেশে সিআরভিএস ব্যবস্থা উন্নয়ন কারিগরি সহায়তা প্রকল্প’-এর সহযোগিতায় শহরের জয়নগর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে জানানো হয়, নেত্রকোনায় গত ২০২৫ সালে যেখানে জন্ম নিবন্ধন ছিল ৬৪ শতাংশ, চলতি বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। একইভাবে, মৃত্যু নিবন্ধনের হারও গত বছরের ৬৯ শতাংশ থেকে কমে চলতি বছরে ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। নিবন্ধনের এই নিম্নমুখী প্রবণতায় অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদের সচিবসহ উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে খালিয়াজুরী, মদন ও কলমাকান্দা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবগণ তাদের নিজ নিজ এলাকার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া নেত্রকোনা পৌরসভার বর্তমান কার্যক্রমের পরিসংখ্যানও উপস্থাপন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশীদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মিজ ফারাহ শাম্মী। যুগ্ম সচিব মুর্শিদা শারমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিআরভিএস প্রকল্পের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. মঈন উদ্দিন ও মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় জেলার ১০ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, পৌরসভার সচিব, ইউপি সচিব ও কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন। সাংবাদিকদের পক্ষে জেলাটি পিছিয়ে পড়ার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন আলপনা বেগম।