আসছে ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ায় শূন্য খরচে (বিনা খরচে) কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সম্প্রতি রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে এফডব্লিউসিএমএস-ভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
সভায় মন্ত্রী বলেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বিনা খরচে কর্মী প্রেরণের প্রথম দুই-তিনটি ফ্লাইট চালুর মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়। নতুন এই ব্যবস্থায় কর্মীদের বিদেশ যেতে কোনো ধরনের অর্থ ব্যয় করতে হবে না; বরং কর্মী পাঠানোর পুরো খরচ বহন করবে বিদেশি নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করতে স্থানীয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কিছু সার্ভিস চার্জও বাতিল করা হয়েছে।
মূল বিষয়সমূহ এক নজরে:
এমওইউ ও ব্যবসার সুযোগ: নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সির সিন্ডিকেটের মধ্যে ব্যবসা সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে।
স্বচ্ছতা ও অনলাইন চাহিদাপত্র: কর্মী পাঠানোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়োগকর্তাদের অনলাইনে চাহিদাপত্র জমা দিতে হবে, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে মন্ত্রণালয়ে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে।
মেডিকেল ফি নির্ধারণ: মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করলে অভিযুক্ত এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবাসীদের সহায়তা সেল: বিদেশে কর্মী পাঠানোর পর তাদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আলাদা সেল গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অল্প কিছু মানুষের অনিয়মের কারণে যেন পুরো জনশক্তি খাত বিতর্কিত না হয়। এ ব্যবসাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও সবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।