জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট রাজনীতি, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রহীনতা, নারী অধিকারের অবমূল্যায়ন এবং পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বিস্তারিত বিবৃতি দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, "কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।"
জামায়াত জোটের বিরোধিতা: সামান্তা শারমিন জানান, প্রায় এক বছর আগেই এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। তার মতে, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার কারণে এনসিপিকে চড়া মূল্য চুকাতে হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রহীনতা ও কাউন্সিল প্রসঙ্গ: দলের ভেতর মতাদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন না করে বারবার আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতো স্বৈরতান্ত্রিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধারায় চলতে শুরু করেছে। এতে দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নারীর রাজনৈতিক অধিকার অবমূল্যায়ন: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা থাকলেও বিজয়ের পর এনসিপি পুরোনো রক্ষণশীল দলগুলোর মতোই নারীদের কোণঠাসা করেছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনী কৌশল নিয়ে অসন্তোষ: 'বড় রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি' করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে এনসিপি অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে বলে মন্তব্য করেন এই নেত্রী।