ঢাকা: শিশুদের হাত ধরেই দেশের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমেই শিশু-কিশোরদের প্রকৃত মেধা ও সৃজনশীলতা বিকশিত হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, “এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।”
বহুমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করলেই চলবে না; বিশ্বজয়ের জন্য জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে পারদর্শী হতে হবে। তিনি জানান, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিশুদের জন্য আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষা থেকে যেকোনো একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর দ্বিতীয় আসর
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এবারের আসরে সারা দেশ থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। ঐতিহ্যবাহী আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস—যা নিয়ে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে শিশু-কিশোররা। আগামী বছরের জুনে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্তসমূহ
আনুষ্ঠানিকতা: বিকেল পৌনে ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা করেন।
উপস্থিতি: অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: বিকেএসপি’র শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্স উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জনতার উচ্ছ্বাস: স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী গ্যালারিতে থাকা শিশু-কিশোর ও ক্রীড়াবিদদের কাছে যান এবং তাদের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠান শেষে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।