জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অপর্যাপ্ত মজুরি এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। দেশটির পাঁচটি প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ফলে জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, আজকের (বৃহস্পতিবার) এই কর্মসূচিতে সারা দেশে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারেন। এর মধ্যে শুধু রাজধানী প্যারিসেই জমায়েত হতে পারেন প্রায় এক লাখ বিক্ষোভকারী।
আন্দোলনের নেপথ্যে কী? গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা ও পর্যাপ্ত সম্পদের দাবিতে শিক্ষার্থীদের হাত ধরে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এর সঙ্গে যোগ দেন শ্রমিকরা এবং বছরকয়েক আগের আলোচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকরা।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি: বর্তমানে ফ্রান্সে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ১২ দশমিক ৩১ ইউরো হলেও, সিএফডিটি (CFDT) ইউনিয়নের প্রধান মেরিলিস লিওঁ দাবি তুলেছেন যে মাসিক নিট বেতন অন্তত ১০০ ইউরো বাড়াতে হবে।
সরকারি সেবার সুরক্ষা: সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সরকারি সেবাসমূহ অক্ষুণ্ণ রাখা।
জনজীবন ও কার্যক্রমে বড় প্রভাব দেশজুড়ে ২৫০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর ফলে ইতিমধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকালে ৮১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। এছাড়া তেল শোধনাগার এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মবিরতির ডাক দেওয়ায় ফ্রান্সকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতে পারে।
নিরাপত্তা ও সরকারের সতর্কতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেনদার্ম (সামরিক পুলিশ) মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতা, দুই হাজারের বেশি দোকান লুটপাট এবং ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার কারণে এবার আগে থেকেই কড়া সতর্কতা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্যারিসে ইউনিয়নগুলোর পূর্বনির্ধারিত মিছিলের পথ পরিবর্তন করে ‘প্লাস দ্য লা রিপাবলিক’ থেকে ‘প্লাস দ্য লা নাসিওঁ’ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, শুক্রবার ও শনিবার পুনরুজ্জীবিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের পক্ষ থেকেও অবরোধ ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় আগামী কয়েক দিন ধরে ফ্রান্সে এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।