গোপালগঞ্জের সরকারি মুকসুদপুর কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ, বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী) আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজের সুপেয় পানির ফিল্টার সংস্কার ও আধুনিকীকরণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, ইউরোপীয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন বোর্ড ও বিটিভি প্রিভিউ কমিটির সদস্য সাবরিনা বিনতে আহমেদ, মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির, মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক তারেকুল ইসলাম রাজু।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারি মুকসুদপুর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি কলেজে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, একটি মসজিদ স্থাপন, কলেজের মাঠের উন্নয়ন এবং এক ভবন থেকে অন্য ভবনে সহজে যাতায়াতের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন।
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, পাশাপাশি নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও জ্ঞান অর্জনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহবুব রহমান বাবর, সম্পাদক, শিক্ষক পরিষদ ও সদস্য, অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটি।
এ সময় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।