ভারতে ব্যবসায়ে ১০ গুণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য জাপানি জায়ান্ট মারুবেনির


অনলাইন ডেস্ক , আপডেট করা হয়েছে : 05-11-2026

ভারতে ব্যবসায়ে ১০ গুণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য জাপানি জায়ান্ট মারুবেনির

ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং বিশাল বাজারকে কাজে লাগাতে আগামী এক দশকে নিজেদের ব্যবসায়িক পরিধি বর্তমানের তুলনায় ১০ গুণ বাড়িয়ে নিতে চায় জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোতো এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানান।

মাসায়ুকি ওমোতোর মতে, বিশ্বের বড় বাজারগুলোর মধ্যে বর্তমানে একমাত্র ভারতেই দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার চমৎকার সুযোগ রয়েছে। ১৪০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে মারুবেনি মূলত ভোগ্যপণ্য এবং উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণকে বৈশ্বিক অর্থনীতির পরবর্তী প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে দেখছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মারুবেনির মুনাফা সবচেয়ে বেশি হলেও, সেই সফল ব্যবসায়িক মডেল এখন ভারতে প্রয়োগ করতে চায় তারা।

ওমোতোর হিসাব অনুযায়ী, ভারতের বর্তমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনসংখ্যাই প্রায় ৪০ কোটি, যা প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার সমান। পাশাপাশি বাকি ১০০ কোটি মানুষের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা ভবিষ্যতে দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ভোক্তাবাজারে পরিণত করবে।

ভারতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট কৌশল হাতে নিয়েছে মারুবেনি:

এই লক্ষ্য সামনে রেখে গত মার্চ মাসে গঠিত হয়েছে 'মারুবেনি কনজ্যুমার প্ল্যাটফর্ম ইন্ডিয়া'। খাদ্য, পানীয়, রেস্তোরাঁ ও ভোগ্যপণ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পদে স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে ভারতীয় নাগরিকদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

খুচরা বাজারের পাশাপাশি ভারতের রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতেও জোরালো উপস্থিতি বাড়াচ্ছে মারুবেনি। ২০২০ সালে মুম্বাইয়ে যাত্রা শুরু করার পর পুনেসহ বিভিন্ন শহরে কার্যক্রম চালিয়ে ২০২৬ সালে এসে ভারতে তাদের পঞ্চম আবাসন প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে সুযোগ সাপেক্ষে হায়দরাবাদ, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

শিল্প খাতেও মারুবেনির ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারতের মোট তামা আমদানির প্রায় ২০ শতাংশই সরবরাহ করে এই জাপানি প্রতিষ্ঠানটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক ডাটা সেন্টার নির্মাণের প্রসার ঘটায় আগামীতে তামার চাহিদা আরও বহুগুণ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন ওমোতো। এ ছাড়া জাপানের স্বনামধন্য সিটিজেন মেশিনারি ও ব্রাদার ইন্ডাস্ট্রিজ-এর উন্নত যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করছে মারুবেনি।

বিশাল সম্ভাবনা সত্ত্বেও ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশের কিছু বাস্তব প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেছেন মাসায়ুকি ওমোতো। তার মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তিতে কার্যকর সালিসি ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং উৎপাদন খাতের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করা জরুরি। নীতিনির্ধারকদের সঠিক নীতিগত উদ্যোগই এই খাতের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ধারণ করবে।

সব মিলিয়ে, একবিংশ শতাব্দীকে ভারতের শতাব্দী হিসেবে অভিহিত করে ওমোতো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে বর্তমান বিশ্বে ভারতই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় গন্তব্য।


সম্পাদকমন্ডলীর উপদেষ্টা -বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন অর রশিদ, সম্পাদক -মো:এনায়েত হোসেন, সহযোগী সম্পাদক- এইচ এম মানিক

উপ-সম্পাদক- ইঞ্জিনিয়ার গোলাম ফারুক ওবি,বার্তা সম্পাদক- সবুজ ইসলাম, লিগ্যাল এডভাইজার- এডভোকেট শামীমা আক্তার।