৩৮ বছর বয়সে এসেও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রান তাড়ায় বিরাট কোহলি যেন এক অন্য নাম—অদম্য, পরাক্রমশালী ও অনন্য। ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ই এখন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির জায়গা। তবে এই সোনালি যাত্রার পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তিনি কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম সেঞ্চুরির ঐতিহাসিক ও অনন্য চূড়ায় পৌঁছাতে পারবেন?
রেকর্ডময় এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ভারতের হয়ে অসংখ্য ম্যাচ জেতানো কোহলি ইতিমধ্যে ওডিআই বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় করে সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের ট্রফি কেবিনেট সমৃদ্ধ করেছেন। এমনকি দীর্ঘ ১৮ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএল ট্রফিও তুলে নিয়েছেন নিজের ঝুলিতে। যে বয়সে বেশিরভাগ তারকা ক্রিকেটার মাঠকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে ধারাভাষ্যকার বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন, সেই বয়সেও কোহলি মাঠে নেমে একের পর এক ইতিহাস গড়েই চলেছেন। বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা তিনি প্রমাণ করে চলেছেন নিজের কঠোর শৃঙ্খলা ও রানের ক্ষুধার মধ্য দিয়ে।
শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ও কোহলির বর্তমান অবস্থান বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকারের ১০০টি সেঞ্চুরির একমাত্র রেকর্ডটি অক্ষুণ্ণ রয়েছে। সেই রেকর্ড ছুঁতে কোহলির প্রয়োজন আর মাত্র ১৪টি সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর তার এই মাইলফলক ছোঁয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হলেও, ২০২৫ সালে লাল বলের ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পর ওডিআই ফরম্যাটে তিনি দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন।
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ছাড়ার পর ওডিআইতে তিনি ইতিমধ্যে ৪টি চমৎকার শতক হাঁকিয়েছেন:
৮৩তম সেঞ্চুরি: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ (দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে, রাঁচি—১৩৫ রান)
৮৪তম সেঞ্চুরি: ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ (দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে, রায়পুর—১০২ রান)
৮৫তম সেঞ্চুরি: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, ইন্দোর—১০২ রান)
৮৬তম সেঞ্চুরি: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, থিরুভানান্থাপুরম—অপরাজিত ১৩৯ রান)
অবসরের পর খেলা শেষ ১৬টি ওডিআই ম্যাচে এই ৪টি সেঞ্চুরি করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, উইকেটে তার তেজ একটুও কমেনি।
সামনে ৩০ থেকে ৩৫টি ম্যাচের হাতছানি বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ পর্যন্ত ভারত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪টি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩টি ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩টি ওডিআই খেলবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের এশিয়া কাপের সম্ভাব্য ম্যাচগুলোসহ বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত কোহলির সামনে ভারতের হয়ে আরও ৩০ থেকে ৩৫টি ওডিআই ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে।
১০০ সেঞ্চুরির চূড়ায় পৌঁছাতে হলে তাকে বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত প্রায় প্রতি আড়াই ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি করতে হবে। কাজটা সহজ না হলেও, বিরাট কোহলি অতীতে যে অবিশ্বাস্য মানদণ্ড স্থাপন করেছেন—তাতে অসম্ভব বলে কিছু নেই!