ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আধ্যাত্মিক জগতের দুই প্রথিতযশা অলির স্মরণে ইছালে ছাওয়াব মাহফিল উপলক্ষে “নাসিরনগরের সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পীরে কামেল মোজাদ্দেদে জামান শাহসূফী সৈয়দ আব্দুল সাত্তার নকশেবন্দী মোজাদ্দেদী ফান্দাউকী (রহ.) ও পীরে কামেল আলহাজ্ব সৈয়দ নাহিরুল হক মাসুম আল ক্বাদেরী চিশতী নকশেবন্দী মোজাদ্দেদী ফান্দাউকী (রহ.) দ্বয়ের ইছালে ছাওয়াব উপলক্ষে নাসিরনগরের ভক্ত-মুরিদদের আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাদ আছর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নাসিরনগর উপজেলা পি.টি.আই সুপার মার্কেট প্রাঙ্গণে এই মাহফিলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো ভক্ত, মুরিদ ও আশেকান অংশগ্রহণ করেন। নারায়ে তাকবীর, নারায়ে রিসালাত স্লোগানে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ আঞ্জুমানে খাদেমুল ইসলামের আমির ও ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফের গদ্দিনশীন পীর সাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ ছালেহ আহমাদ মামুন আল হোসাইনী মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেন।
ফান্দাউক দরবার শরীফের মুবাল্লেগ হযরত মাওলানা হাফেজ মোঃ মামুন সাহেবের সঞ্চালনায় প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটরশি দরবার শরীফের খাদেম হযরত মাওলানা প্রফেসর আমিনুল ইসলাম চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বয়ান পেশ করেন ফান্দাউক দরবার শরীফের মুবাল্লেগ হযরত মাওলানা হুমায়ুন কবির।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সিনিয়র শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান, নাসিরনগর মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা হাফেজ আতাউর রহমান, হযরত মাওলানা মোঃ জাবের আহমেদ মাসুমীসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ।
দিনব্যাপী মাহফিলে খতমে কুরআন, খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান, খতমে দালাইলুল খাইরাত, মিলাদ, কিয়াম শরীফ ও জিকির-আজকার অনুষ্ঠিত হয়। স্মৃতিচারণমূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ আলোচনায় অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে অতিবাহিত হয় পুরো আয়োজন।
বক্তারা বলেন, ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। নূরনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই মানবজাতির শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে। প্রকৃত মুমিন হতে হলে প্রিয় রাসুল (সা.) এর আদর্শ অনুসরণ করে আল্লাহ তায়ালার অলি-আউলিয়াগণের মহব্বত হৃদয়ে ধারণ করে ইহলৌকিক জীবন পরিচালনা করতে হবে।
পরিশেষে মুসলিম উম্মাহসহ বিশ্ব মানবতার কল্যাণ ও শান্তি, দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মুসল্লিদের মাঝে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।