মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি তাদের পেছনের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট নেতার বিচার দাবি: নয়ন বলেন, শাকের হত্যায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতরা হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে যে নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছিল, মাগুরার সচেতন নাগরিক হিসেবে সেই নেতাকেও আইনের আওতায় আনা আবশ্যক।
অনুপস্থিতির কারণ: তার বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের জবাব দিয়ে তিনি জানান, শাকের যেদিন খুন হন, তার আগেই ভোরের দিকে ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের উদ্দেশ্যে তিনি মাগুরা ছেড়েছিলেন। গাড়িতে বসেই তিনি শাকেরের মৃত্যুর খবর পান। ঢাকায় পৌঁছে অসুস্থ হয়ে ঘুমায়ে পড়ার কারণে প্রথমদিকে বিষয়টি পরিষ্কার বুঝতে পারেননি।
রাজনীতি করার অভিযোগ: তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি মহল এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। তবে তিনি সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় ছিলেন। যারা নিজেরা খুন করে অন্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে এবং খুনিদের সঙ্গে মায়াকান্না করেছে, তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বুধবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সের সেড রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও পুলিশের পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
স্বর্ণ লুট নিয়ে বিরোধ: পুলিশের দাবি, গত ৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহণের বাসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ১৫০ ভরি ওজনের ১৪টি স্বর্ণের বার লুট করে একটি ডাকাত দল। এই ডাকাতিতে নিহত শাকের ও মারুফ হোসেনসহ ১২-১৫ জনের একটি দল অংশ নেয়।
হত্যার সুপারি কিলিং: লুট করা স্বর্ণ ভাগাভাগি নিয়ে মারুফ ও শাকেরের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম জাহিদের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে শাকেরকে গুলি করে হত্যা করানো হয়।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার: এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত দুটি মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম, অনিমেষ মজুমদার, মারুফ হোসেন, গোলাম জাহিদ ও বশির আলী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া ডাকাতির মামলায় মারুফ, গোলাম জাহিদ, জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, ফরিদ মণ্ডল, মিল্টন ও তার স্ত্রী মারুফা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির ৬১ ভরি স্বর্ণ, দুটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।