মানবাধিকার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আত্মপ্রকাশ করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন ককাস


অনলাইন ডেস্ক , আপডেট করা হয়েছে : 04-11-2026

মানবাধিকার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আত্মপ্রকাশ করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন ককাস

ঢাকা: মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্য জানার অধিকার এবং নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম মানবাধিকার ও শান্তিবিষয়ক সংসদীয় ককাস। বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ককাসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের টানেলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ককাসের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন এর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

  • স্বাধীন মতপ্রকাশ: নাগরিকরা যেন স্বাধীনভাবে কথা বলতে, মতামত প্রকাশ করতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।

  • মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধ: অতীতের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো চিহ্নিত করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া তদারকি করা।

  • সমন্বিত উদ্যোগ: নির্বাহী বিভাগের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র, আইন, পররাষ্ট্র এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা।

  • ঐতিহাসিক উদ্যোগ: বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মানবাধিকারবিষয়ক কোনো সংসদীয় ককাস গঠিত হলো।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট: ককাস সভাপতি ফাহিমা নাসরিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে ককাস।

  • উপস্থিত নেতৃত্ব: ককাসের প্রথম বৈঠকে সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মীর আহমাদ বিনকাসেম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, মো. আবুল হাসনাত, জহরত আদিব চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম ও আন্না মিনজ।

বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, অতীতে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং যারা এর ভুক্তভোগী হয়েছেন, তাদের সঠিক ও গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যাতে নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতে না পারে, সে ব্যাপারেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ককাসের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভা, সেমিনার ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর এই সংসদীয় ককাস।


সম্পাদকমন্ডলীর উপদেষ্টা -বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন অর রশিদ, সম্পাদক -মো:এনায়েত হোসেন, সহযোগী সম্পাদক- এইচ এম মানিক

উপ-সম্পাদক- ইঞ্জিনিয়ার গোলাম ফারুক ওবি,বার্তা সম্পাদক- সবুজ ইসলাম, লিগ্যাল এডভাইজার- এডভোকেট শামীমা আক্তার।