কাস্টম এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রাম এর সহকারী কমিশনার আব্দুস সামাদ এর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাগ পেয়েছিলেন ১০/১১ বিঘার মত। এখন সেটি ফুলে ফেঁপে উঠছে প্রায় ৫০ এর উপরে।
অনুসন্ধানে আ. সামাদ এর গ্রামের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কালুডাংগা গ্রামে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান- আগে আব্দুস সামাদ এর অবস্থা অতোটা ভাল ছিল না। কাস্টমসে চাকরি নেয়ার পর তার ভাগ্য খুলে যায়। রাতারাতি কোটিপতি বনে যান।
এলাকায় কেউ জমি জমা বিক্রি করলে সামাদের কাছে ছুটে যান। অন্য ১০ জনের চেয়ে বেশী দামে তিনি সেটা কিনে নেন। বাবার রেখে যাওয়া ১০/১১ বিঘা জমির আশে পাশে আরো বিঘা ৪০ এর মত জমি তিনি কিনেছেন বলেও গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা জানান।
কালুডাংগা পার হয়ে শালুকগাড়ি থেকে কিছুটা সামনে এগুলেই হারা খাল ব্রীজের আগে কুশোআাটা মৌজায় একদাগে ৭ বিঘা জমি কিনে তিনি আলোচনায় আসেন। আশে পাশের আরো কয়েক বিঘা জমিও তিনি ক্রয় করেন। ব্রীজের ডান পাশের স্যালো মেশিন সংলগ্ন আরো ১৫/২০ বিঘা জমিও তিনি কিনেছেন বলে গুচ্ছগ্রামে কেউ কেউ জানান। এছাড়াও গুচ্ছগ্রামের পাশেই একটি বাগান রয়েছে। শ্বশুর বাড়ি এলাকা ফুলবাড়ি মৌজাতেও কিনেছেন বেশ কয়েক বিঘা আবাদি জমি।
এতেই তিনি ক্ষান্ত হননি। বগুড়া শহরে চক লোকমান জামে মসজিদের সামনে ৪ তলা ডুপ্লেক্স বাড়িও করেছেন প্রায় ২ কোটি টাকায়। মেয়ে মুনমুনকে ১৫/২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ডাক্তারী পড়িয়েছেন। আরেক মেয়ে তানসিন পড়ে কলেজে। ছেলে রিয়াদ পড়াশুনা করেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে, রিফাত আছে মাদ্রাসায়।
এতকিছু খরচের পরও আব্দুস সামাদ কিন্তু স্ত্রীকে ঠকাননি। বগুড়া নিউমার্কেট এ তার এক নিকটাত্মীয়ের জুয়েলারী দোকান থেকে স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় শতাধিক ভরি স্বর্ণালংকার কিনে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে, অনুসন্ধানের সময় দোকানটি বন্ধ থাকায় সঠিক পরিমাণটা জানা সম্ভব হয়নি। গ্রামের বাড়িতেও বিশালাকারের একটি বিল্ডিং করেছেন তিনি।
সবমিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকার উপরে। যা তার সারাজীবনের অর্জিত আয়ের সাথে বিস্তর ফারাক বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এনবিআর এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বেতনের টাকায় এতোকিছু করা অসম্ভব। বগুড়া শহরে বাড়ি করার সময় বিষয়টি দুদকের নজরে আসে, কিন্তু বিপুল অর্থের বিনিময়ে সে যাত্রায় তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন বলে জনশ্রুতি আছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে মতামত জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলে, তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন সাড়া দেননি।
উপরন্তু, সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য লোক মাধ্যমে তিনি ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মামলা করার হুমকি দেন।