শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) বদলি-পদায়ন, ঠিকাদারি কাজ বণ্টন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তিন প্রকৌশলীর নাম উঠে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার, অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং উন্নয়নকাজে অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন অধিদপ্তরের ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনি, সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আবু সাঈদ আকন্দ এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুধু মনিরুজ্জামান মনি ও আবু সাঈদ আকন্দের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখার উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান স্বাক্ষরিত চিঠিতে দুই সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসহ উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইইডির প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে বদলি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার, অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, কাজ সম্পন্ন না করেই অগ্রিম বিল প্রদানে চাপ সৃষ্টি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযোগপত্রে আবু সাঈদ আকন্দ, যিনি শিমুল আকন্দ নামে পরিচিত, তাঁর বিরুদ্ধে রংপুরে দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়নকাজে অনিয়ম এবং নিজের ভাইয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রংপুরে বদলির পর অল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় ঢাকায় পদায়নেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগপত্রে তাঁকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মনিরুজ্জামান মনির বিরুদ্ধে ঢাকার বাড্ডার একটি মাদরাসার উন্নয়নকাজের টেন্ডার পাইয়ে দিতে দুই ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ১৩ আগস্ট ইইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও পদায়নে প্রভাব বিস্তারের বিষয়েও অভিযোগপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধেও প্রভাব বিস্তার এবং বদলি-সংক্রান্ত অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতায় অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ও প্রকৌশল কার্যক্রমে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে।
তবে বিশেষভাবে লক্ষণীয়, অভিযোগপত্রের মূল বিবরণে তিনজনের নাম থাকলেও মন্ত্রণালয়ের ২৮ অক্টোবরের চিঠিতে শাহজাহান আলীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে তদন্তের নির্দিষ্ট কার্যপরিধি, কমিটি গঠন কিংবা প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনও এখনো পাওয়া যায়নি।