গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও করায় পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পোশাকশ্রমিক তৌফিকের মৃত্যু


অনলাইন ডেস্ক , আপডেট করা হয়েছে : 04-11-2026

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও করায় পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পোশাকশ্রমিক তৌফিকের মৃত্যু

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলা আন্দোলনের ভিডিও ধারণ করার জেরে নির্মমভাবে মারধরের শিকার হন তৌফিক হোসেন (২১) নামের এক তরুণ পোশাকশ্রমিক। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়।

বুধবার রাতে [দৈনিক সংগ্রাম]-এর প্রতিবেদন সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর (রোববার) গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে মোবাইল ফোনে ঘটনার দৃশ্য ধারণ করছিলেন তৌফিক। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আন্দোলনকারীর ছদ্মবেশে কারখানা ভাঙচুর করতে আসা দুই ব্যক্তি হঠাৎ তার ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই রক্তবমি শুরু করেন তৌফিক।

পরে সহকর্মী শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহণের পর রাতেই পরিবারের সদস্যরা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উদ্দেশে রওনা হন।

নিহত তৌফিক হোসেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় ‘লায়লা স্টাইলস লিমিটেড’ কারখানায় চাকরি করতেন।

ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ধোঁয়াশা। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম-সেবা জানান, ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বাংলাবাজার এলাকায় আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো অভিযানে তৌফিক আহত হননি; বরং ভিডিও ধারণ করার সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মাধ্যমেই তিনি মারধরের শিকার হয়ে আহত হয়েছিলেন।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, আন্দোলনকারীর পরিচয় দেওয়া বহিরাগত দুই হামলাকারী তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তৌফিকের অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সহকর্মীরা।


সম্পাদকমন্ডলীর উপদেষ্টা -বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন অর রশিদ, সম্পাদক -মো:এনায়েত হোসেন, সহযোগী সম্পাদক- এইচ এম মানিক

উপ-সম্পাদক- ইঞ্জিনিয়ার গোলাম ফারুক ওবি,বার্তা সম্পাদক- সবুজ ইসলাম, লিগ্যাল এডভাইজার- এডভোকেট শামীমা আক্তার।