নওগাঁর রাণীনগরে পরিতাক্ত অবস্থায় এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে ত্রিমোহনী হাটের একটি দোকানের বারান্দা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই বৃদ্ধাকে উপজেলা কাশিমপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহনী হাটের আশপাশে ঘোরাফেরা করতো। হাটের বিভিন্ন দোকানের বারান্দায় বসে থাকতেন তিনি। কেউ খাবার দিলে খেতেন, তবে কারও কাছে তেমন কিছু চাইতেন না। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং মানসিকভাবেও কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন।
স্থানীয় মো. বাবু জানান, কয়েক দিন আগে ওই বৃদ্ধার কাছে তাঁর বাড়ি কোথায় এবং ছেলে-মেয়ে কয়জন এমন নানা বিষয়ে জানতে কথা বলছিলাম। কিন্তু কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দেননি তিনি। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন, আর চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। তাঁর এমন অসহায় অবস্থা দেখে আমাদেরও মায়া হতো। বুধবার সকালে হাটে এসে একটি দোকানের বারান্দায় বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখতে পাই।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে তার ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে বৃদ্ধার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর বাড়ি নাটোর জেলার লালপুর থানায়। ইতোমধ্যে তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মরদেহ নেওয়ার জন্য রাণীনগর থানায় আসতিছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে পরিচয়হীন অবস্থায় হাটের আশপাশে পড়ে থাকা এই বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলনের আগেই তাঁর এমন করুণ পরিণতি স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।