একসময় নারায়ণগঞ্জে মুদি দোকানের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মো. সোহাগ। সময়ের ব্যবধানে তিনি বর্তমানে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। ছোট পরিসরের ব্যবসা থেকে বৃহৎ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে তাঁর এই উত্থান ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর বিনিয়োগের উৎস, আয়কর নথি এবং ব্যাংক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।
জানা যায়, সোহাগ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি বিএনপির প্রভাবশালী মহলে ভিড়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সোহাগ একাধিক মন্ত্রী, এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করে গেছেন। কিন্তু পালাবদলের পর নিজেকে বিএনপি ঘনিষ্ঠ ভোলবদলকে অনেকেই অবৈধ সম্পদ রক্ষা ও সুবিধা আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন। ফলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি মনে করছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাবার রেখে যাওয়া মীম শরৎ রাইছ এজেন্সির মাধ্যমে আটা-ময়দা ও ভূষি মালের ব্যবসা শুরু করেন সোহাগ। ২০১৪ সালে তিনি শহরের নিতাইগঞ্জে মেসার্স হোসানিয়া ফ্লাওয়ার মিলের মাধ্যমে আটা-ময়দা ও ভূষি বাজারজাতের ব্যাবসা করতেন। স্থনীয়রা সোহাগকে চিনতেন নিতাইগঞ্জের গমের দালাল হিসেবে। এসময় তার সাথে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। এরপর তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। প্রথমে ওএমএস ডিলারশীপ, পরে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদারী ব্যবসার মধ্যদিয়ে অবৈধ উপায়ে তিনি একের পর এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অভিযোগ আছে সোহাগ খাদ্য অধিদপ্তরের টেন্ডার কারসাজি করে নিজ জেলা নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার ওএমএস ডিলারদের কাছে মালামাল সরবরাহ করছেন। বিদেশী ভেন্ডারের মাধ্যমে ব্রাজিল, ইউক্রেন, রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে সরকারিভাবে গম ক্রয়ের নেপথ্যে হাত রয়েছে তার।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সোহাগ ফ্লাওয়ার মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর মহাসচিব হওয়ার সুবাদে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সভা/সেমিনারে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতেন। ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও সাধন চন্দ্র মজুমদারসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে । তিনি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে অবাধে যাতায়াত করতেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার বনে যান।
অবৈধ পন্থায় অত্যন্ত সুকৌশলে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন সোহাগ। বর্তমানে দেশে ও বিদেশে তার বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কার্গো জাহাজের ব্যবসা। এসব মালবাহী জাহাজে সরকারিভাবে গম পরিবহন ও সরবরাহ করেন সোহাগ। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সবপর্যায়ের সকলকে ম্যানেজ করে তিনি এখনো খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। অন্যদিকে, আওয়ামী সখ্যতার ফলে বাগিয়ে নেন একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠনের পদ।