গুরুত্বপূর্ণদপ্তরে পদায়ন পেলেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাকিবের বিরুদ্ধে। বিসিএস ৪০ ব্যাচের এই কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আইন ও যাচাই-বাছাইকে তোয়াক্কা না করে পণ্য চালান খালাস করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তার এ ধরনের কার্যক্রম এখন কাস্টমস মহলে ওপেন সিক্রেট।
সম্প্রতি মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা একটি পণ্য চালান মাত্র ৩৫ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করে ছেড়ে দেন সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান । পরবর্তীতে কাস্টম হাউসের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওই চালানটির প্রকৃত শুল্ক-কর হওয়ার কথা ছিল ৭৬ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, সাকিবের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এই বিশাল রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চালানটি নিয়ে যায়। এছাড়া কুরিয়ারের আরও ৩১টি চালানে প্রিভেন্টিভ টিম লক দিয়ে আটকে দেয়।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। একজন সাধারণ শ্রমিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও নাম ব্যবহার করে মাত্র ৫ দিনে প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রি খালাস করা হয়েছে। ‘ডেল্টা কার্গো মিডিয়া’ নামক প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে এসব চালান বের করা হয়। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু বিল অব এন্ট্রি নম্বরও (যেমন: ১০৯৯৬৯৫, ১০৯৯৭৫৬, ১০৯৯৭৪৫, ১০৮৮৭৩০ ইত্যাদি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট মূলত নমুনা পণ্য বা এলসি ছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণের (সারা বছরে প্রায় ৫ হাজার ডলার) নমুনা খালাসের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু সহকারী কমিশনার সাকিব যোগদানের পর কুরিয়ার ইউনিটটিকে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের মাধ্যম বানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে কুরিয়ারে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক পণ্য পার করে দিচ্ছে। এমনকি এর আগে রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারস্টে কর্মরত থাকাকালীনও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের মুখে তাকে দুই মাসের মাথায় বদলি করা হয়েছিল।
সার্বিক অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউস ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার পর সহকারী কমিশনার সাকিবকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা কাস্টম হাউসেরই আরেকটি শাখায় বদলি করা হয়েছে।