প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করার পর পারিবারিক ও সামাজিক চাপের মুখে বিচ্ছেদের যাতনা সহ্য করতে না পেরে মাত্র ৮ থেকে ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ হারিয়েছেন এক সাবেক স্বামী ও স্ত্রী। নেত্রকোনা ও গাজীপুরে পৃথক দুটি স্থান থেকে তাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার আটবাড়ি গ্রামের সুনো মিয়ার ছেলে মো. সাকিব মিয়ার (২৩) সঙ্গে তার মামাতো বোন এবং গাজীপুরে কর্মরত মুক্তা আক্তারের (১৯) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে এই বিয়ের খবর জানাজানি হলে সাকিবের আগের সংসারের সঙ্গে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এই চাপের মুখে ঘটনার প্রায় ২৫ দিন আগে মুক্তাকে তালাক দিতে বাধ্য হন সাকিব।
প্রিয়জনের বিচ্ছেদ এবং সামাজিক মানসিক চাপের কারণে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুরে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মুক্তা আক্তার। এদিকে এই খবর গাজীপুর থেকে মোহনগঞ্জে পৌঁছানোর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সাবেক স্বামী সাকিব মিয়া। পরদিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে সাকিবেরও ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অন্যদিকে, মৃত্যুর পর মুক্তার বাবা বাবুল মিয়া পুলিশকে না জানিয়ে তার মরদেহ ফাগুয়া গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল আওয়াল জানান, নিহতদের শরীরে কোনো আঘাতের প্রাথমিক চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আলামত দেখে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
ঘটনা দুটিতে সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
সম্পাদকমন্ডলীর উপদেষ্টা -বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন অর রশিদ, সম্পাদক -মো:এনায়েত হোসেন, সহযোগী সম্পাদক- এইচ এম মানিক
উপ-সম্পাদক- ইঞ্জিনিয়ার গোলাম ফারুক ওবি,বার্তা সম্পাদক- সবুজ ইসলাম, লিগ্যাল এডভাইজার- এডভোকেট শামীমা আক্তার।