গত ২০/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দুপুর আনুমানিক ১২ ঘটিকায় ভিকটিম অটোরিকশা চালক আরজান মিয়া @ আবদুল্লা (১৯) @ মারজান তাঁর চালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন গত ২১/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১১টায় নাসিরনগর থানাধীন নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের নাসিরনগর সরকারি কলেজের সামনে জসিম উদ্দিনের মার্কেটের দক্ষিণ পাশে কাশবনের ভেতর চোখ, মুখ ও হাত ট্রান্সপারেন্ট স্কচটেপ দ্বারা প্যাঁচানো এবং পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভিকটিমের অটোরিকশাটি আশুরাইল এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলেও মোবাইল ফোনটি ঘাতকরা লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. আউয়াল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানার মামলা নং-২২, তারিখ-২২/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। গত ০২/১০/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই-এর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষন নিবিড় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ০২/১১/২০২৬ খ্রি: তারিখ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন মইনপুর পূর্ব নয়নপুর গ্রাম নিবাসী মো. সেন্টু মিয়ার বসতঘর থেকে মামলার ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামি মো. তানভীর আহমেদ @ তুহিন (৩৫)-কে গ্রেফতার করেন। ইতোপূর্বে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থেকে লুণ্ঠিত মোবাইল উদ্ধারসহ সংশ্লিষ্ট চক্রের মাধ্যমে সিহাব হোসেন চৌধুরী ও রাহাব আলী প্রকাশ জুয়েলকে গ্রেফতার করা হলে তারা বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই-এর তদন্তে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি তানভীর আহমেদ তুহিন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিমের অটোরিকশা লাখাইয়ের বামৈ বাজার থেকে রিজার্ভ নিয়ে নাসিরনগরের সাহেব বাড়ি যায়। পরবর্তীতে সুয়েব মিয়া ও মাহফুজুর রহমান রিমনের সহযোগিতায় পূর্ববিরোধের জের ধরে ভিকটিমের হাত-পা চেপে ধরে এবং সুয়েব গলায় চাপ দিয়ে ও মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ভিকটিম মারজানকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ কাশবনের ভেতর ফেলে দেয়। লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনটি হবিগঞ্জ পৌর মার্কেটের 'সোহেল টেলিকম'-এ বিক্রি করে, যা পরবর্তীতে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত অপর আসামি মো. মাহফুজুর রহমান রিমন অন্য মামলায় কারাগারে আটক থাকায় তাকে অত্র মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মো. তানভীর আহমেদ @ তুহিনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে সে কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।