দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৪ পাওয়ার পর মনে মনে পণ করেছিলেন—পরবর্তী পরীক্ষায় তাকে জিপিএ-৫ পেতেই হবে। সেই জেদ আর অদম্য মনোবলকে সম্বল করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে আলিম পরীক্ষায় ঠিকই কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ১৮ বছরের তরুণ সাকিরুল ইসলাম। তার এই অনুপ্রেরণাদায়ক সাফল্যে এখন আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক ও পুরো এলাকাবাসী।
যেভাবে কাটল পরীক্ষার দিনগুলো: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাকিরুল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে পরীক্ষা দিলেও তার পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। পরীক্ষা চলাকালে একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতাকে হার মানিয়ে সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সব কটি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে শুরু হওয়া ফলাফলের অপেক্ষার দিনগুলোতেও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ফল প্রকাশের পর তার জিপিএ-৫ অর্জনের খবর দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়।
পরিবার ও পটভূমি: বাউফল সদর ইউনিয়নের হোসনাবাদ এলাকার সাধারণ এক পরিবারে সাকিরুলের জন্ম। তার বাবা মাওলানা মো. মোশাররফ হোসাইন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন এবং মা মোসা. সাকিরা বেগম গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে সাকিরুল বড়; তার ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মাশরাফি (১১) একই মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও: মেধাবী এই শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাকিরুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তাকে ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এ সময় ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেন, "সাকিরুলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতে সে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তাকে জীবনে বড় কিছু অর্জন করতে হবে এবং মনোবল সর্বদা শক্ত রাখতে হবে।"